প্রাথমিক বিজ্ঞান: বিস্তৃত প্রশ্ন
অধ্যায়-৫
প্রশ্ন: অণুর ধারণায় পদার্থের তিন অবস্থা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পদার্থ তিন অবস্থায় থাকে—কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। এ অবস্থার পার্থক্য মূলত অণুগুলোর বিন্যাস ও গতির ওপর নির্ভর করে।
কঠিন পদার্থ: কঠিন অবস্থায় অণুগুলো খুব ঘনভাবে একে অপরের পাশে থাকে এবং তাদের মধ্যে আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। তাই কঠিন পদার্থের নিজস্ব আকার ও আয়তন থাকে। যেমন: বরফ ও পাথর।
তরল পদার্থ: তরলের অণুগুলো কঠিনের তুলনায় কিছুটা দূরে থাকে এবং আকর্ষণ শক্তি মাঝারি। তাই তরল পাত্রের আকার ধারণ করে, কিন্তু আয়তন নির্দিষ্ট থাকে। যেমন: পানি ও তেল।
গ্যাসীয় পদার্থ: গ্যাসের অণুগুলো সবচেয়ে দূরে থাকে এবং তাদের মধ্যে আকর্ষণ শক্তি খুবই কম। অণুগুলো চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য গ্যাসের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। যেমন: জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেন।
প্রশ্ন: বাসাবাড়ির বর্জ্য পদার্থ থেকে পরিবেশদূষণ কমানোর জন্য কী কী করা যায়?
উত্তর: পরিবেশদূষণ কমানোর জন্য বাসাবাড়ির বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যায়:
বর্জ্য আলাদা করা: জৈব, পুনর্ব্যবহারযোগ্য (প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ) এবং অ-পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করে ফেলা।
জৈব বর্জ্য কম্পোস্ট তৈরি: রান্নাঘরের সবজি খোসা, ফলের খোসা ইত্যাদি থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করা।
প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার: পানির বোতল, প্যাকেট বা প্লাস্টিক সামগ্রী পুনর্ব্যবহার করা।
কাগজ ও পিচবোর্ড রিসাইকেল করা: পুরোনো বই, খাতা, কার্টন সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারে দেওয়া।
বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলা: বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলা।
কম ব্যবহার, পুনরায় ব্যবহার: অপ্রয়োজনীয় জিনিস কম ব্যবহার করা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস বারবার ব্যবহার করা।
প্রশ্ন: চিনির শরবতে ময়লা থাকলে সেই মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলো কীভাবে আলাদা করা যায়?
উত্তর: চিনির শরবতে ময়লা থাকলে ছাঁকনি ব্যবহার করে মিশ্রণ আলাদা করা যায়।
প্রক্রিয়া: প্রথমে একটি ছাঁকনি বা পরিষ্কার কাপড় নিতে হবে। শরবতটি ছাঁকনিতে ঢাললে ময়লা ছাঁকনির ওপর আটকে যাবে, আর চিনির শরবত নিচে পরিষ্কারভাবে বেরিয়ে আসবে। প্রয়োজন হলে আরও একবার ছেঁকে নেওয়া যায়। এই পদ্ধতিকে ছাঁকন পদ্ধতি বলা হয়, যা তরল মিশ্রণ থেকে কঠিন ময়লা আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন: ‘পরমাণু ও অণু কী’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পরমাণু ও অণু হলো পদার্থের গঠনের মূল ভিত্তি। কোনো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যাকে আর ভাঙা যায় না এবং যা পদার্থের বৈশিষ্ট্য বহন করে, তাকে পরমাণু বলা হয়। পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না। গ্রিক শব্দ ‘atomos’ থেকে ‘atom’ বা পরমাণু শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। মহাবিশ্বের সব পদার্থই এই পরমাণু দিয়ে তৈরি। যেমন: হাইড্রোজেন পরমাণু, অক্সিজেন পরমাণু ইত্যাদি।
অন্যদিকে দুই বা তার বেশি পরমাণু যখন রাসায়নিকভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তাকে অণু বলা হয়। অণু হলো পদার্থের সেই ক্ষুদ্রতম অংশ, যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে এবং ওই পদার্থের সব গুণাগুণ বজায় রাখে। একই ধরনের পরমাণু মিলে মৌলিক অণু তৈরি হয় (যেমন: দুটি অক্সিজেন পরমাণু মিলে অক্সিজেন অণু)। আবার ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু মিলে যৌগিক অণু তৈরি হয় (যেমন: হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণু মিলে পানির অণু)। অণুকে ভাঙলে আবার পরমাণু পাওয়া যায়। অর্থাৎ পরমাণু হলো ইট, আর অণু হলো সেই ইট দিয়ে তৈরি ছোট একটি দেয়াল, যা দিয়ে পরে পুরো দালান বা পদার্থ তৈরি হয়।
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা