এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। পানি জীবদেহে দ্রাবকের মতো কাজ করে

বিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন

প্রশ্ন: দেহে পানির কাজ কী কী?

উত্তর: জীবদেহে পানি দ্রাবকের কাজ করে। পানি খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। পানির দ্বারা শরীর গঠনের নানা প্রয়োজনীয় উপাদান দেহের সর্বত্র পরিবাহিত হয়। বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে দেহ থেকে নিষ্কাশন করে। এ ছাড়া পানি দেহ থেকে ঘাম নিঃসরণে ও বাষ্পীভবনের দ্বারা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। দেহকোষ গঠন ও কোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলো পানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: ল্যাকটোজ ও গ্লাইকোজেন কিসে পাওয়া যায়?
উত্তর: 
ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা গরু, ছাগল ও অন্যান্য প্রাণীর দুধে থাকে। গ্লাইকোজেন মানুষ, পশু ও পাখি–জাতীয় প্রাণীর যকৃৎ ও মাংসে (পেশি) থাকে।

প্রশ্ন: যেসব ড্রাগে আসক্তি সৃষ্টি হয়, সেগুলো কী?

উত্তর: উল্লেখযোগ্য ড্রাগ, যেগুলোর ওপর মানুষের আসক্তি সৃষ্টি হয়, সেগুলো হচ্ছে আফিম ও আফিমজাত পদার্থ, হেরোইন, মদ, পেথিডিন, বারবিচুরেট, কোকেন, ভাং, চরস, ম্যারিজুয়ানা, এলএসডি ইত্যাদি।

প্রশ্ন: ভিটামিন Aএর উৎস কী কী?
উত্তর: 
প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছ, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিনসমৃদ্ধ শাকসবজি, যেমন লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনাপাতা, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল, যেমন আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে ভিটামিন A উল্লেখযোগ্য হারে আছে।

প্রশ্ন: অধিক ভিটামিন D শরীরে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় কেন?
উত্তর: 
দৈনিক চাহিদা অপেক্ষা অধিক পরিমাণে ভিটামিন D গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এতে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে বৃক্ক, হৃৎপিণ্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে।

প্রশ্ন: মানবদেহে ভিটামিন E-এর কাজ কী?
উত্তর: 
মানবদেহে ভিটামিন E হলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ধমনিতে চর্বি জমা রোধ করে এবং সুস্থ ত্বক বজায় রাখে। এ ছাড়া ভিটামিন E কোষ গঠনে সহায়তা করে এবং বেশ কিছু শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ভিটামিন E মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যত্ব দূর করে। ভিটামিন E-এর অভাবে জরায়ুর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যুও হতে পারে।

প্রশ্ন: ভিটামিন C-এর অভাবে কী হয়?
উত্তর: 
ভিটামিন C-এর তীব্র অভাবে স্কার্ভি (দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া) রোগ হয়। এর অভাবে—

১. অস্থির গঠন শক্ত ও মজবুত হতে পারে না।

২. ত্বকে ঘা হয়, ক্ষত শুকাতে দেরি হয়।

৩. দাঁতের মাড়ি ফুলে দাঁতের অ্যানামেল উঠে যায়। দাঁত দুর্বল হয়ে অকালে ঝরে পড়ে।

৪. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়ে সহজে ঠান্ডা লাগে।

প্রশ্ন: সবার জন্য প্রযোজ্য, এমন সুষম খাবারে খাদ্য উপাদান কী অনুপাতে হবে?
উত্তর: 
ক্যালরি প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে সাধারণভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য এমন খাবার হলো:

১. প্রোটিন–জাতীয়: মোট ক্যালরির ১৫ শতাংশ।

২. শর্করা–জাতীয় (বেশির ভাগই কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট হবে, চিনি–জাতীয় হবে না): মোট ক্যালরির ৫০–৬০ শতাংশ।

৩. চর্বি–জাতীয়: ক. সম্পৃক্ত (স্যাচুরেটেড) স্নেহপদার্থ—মোট ক্যালরির ৭ শতাংশ।

    খ. অসম্পৃক্ত (আনস্যাচুরেটেড) স্নেহপদার্থ—মোট ক্যালরির ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

  • মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষক
    আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা