সাঁওতালদের প্রধান উৎসব ‘সোহরাই’—প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (অধ্যায় ৩)

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

অধ্যায়-৩

প্রশ্ন: গারোরা কোথায় বাস করে?

উত্তর: গারোরা প্রধানত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বাস করে। তারা বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। তাদের নিজস্ব ভাষার নাম মান্দি। তারা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে।

প্রশ্ন: গারোদের প্রধান উৎসব কী?

উত্তর: গারোদের প্রধান উৎসবের নাম ওয়ানগালা। এটি দেবতা সালজংয়ের প্রতি ধন্যবাদ ও ফসল কাটার পর উদ্‌যাপন করা হয়। উৎসবে নাচ, গান ও আনন্দের আয়োজন থাকে। সবাই মিলেমিশে উৎসব পালন করে।

প্রশ্ন: খাসিরা কোথায় বাস করে?

উত্তর: খাসিরা প্রধানত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বাস করে। তাদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। তারা পান ও সুপারি চাষে দক্ষ। তারা নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি বজায় রাখে।

প্রশ্ন: খাসি সমাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: খাসি সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারে মায়ের বংশপরিচয় অনুসরণ করা হয়। নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি তাদের সমাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন: খাসিদের প্রধান পেশা কী?

উত্তর: খাসিদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তারা বিশেষভাবে পান চাষ করে। এ ছাড়া সুপারি ও চা চাষেও অংশ নেয়। তারা পরিশ্রমী জনগোষ্ঠী।

প্রশ্ন: ম্রোরা কোথায় বাস করে?

উত্তর: ম্রোরা প্রধানত বান্দরবান জেলায় বাস করে। তারা পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের প্রধান জীবিকা জুমচাষ। তারা প্রকৃতিনির্ভর জীবন যাপন করে।

প্রশ্ন: ম্রোদের প্রধান পেশা কী?

উত্তর: ম্রোদের প্রধান পেশা জুমচাষ। তারা পাহাড়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে। কৃষিকাজের পাশাপাশি পশুপালনও করে। তারা পরিশ্রমী জনগোষ্ঠী।

প্রশ্ন: ওঁরাও জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা কী?

উত্তর: ওঁরাও জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। তারা গবাদিপশুও পালন করে। কৃষিকাজের মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে।

প্রশ্ন: ওঁরাও জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব সম্পর্কে লিখ।

উত্তর: ওঁরাও জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসবের নাম কারাম। এই উৎসব ভাদ্র মাসে পালন করা হয়। উৎসবে তারা নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী গান, নাচ ও আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণ করে।

প্রশ্ন: সাঁওতালরা কোথায় বাস করে?

উত্তর: সাঁওতালরা প্রধানত রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে বাস করে। তারা পল্লিভিত্তিক জীবন যাপন করে। কৃষিকাজ তাদের প্রধান পেশা। তারা নিজস্ব সংস্কৃতি অনুসরণ করে।

প্রশ্ন: সাঁওতালদের প্রধান উৎসব কী?

উত্তর: সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই। এটি ফসল কাটার পর উদ্‌যাপিত হয়। উৎসবে নাচ, গান ও আনন্দ হয়। সবাই মিলেমিশে উৎসব
পালন করে।

প্রশ্ন: গারোদের ভাষার নাম কী?

উত্তর: গারোদের ভাষার নাম আচিক। এটি তাদের মাতৃভাষা। তারা পরিবার ও সমাজে এই ভাষায় কথা বলে। তারা ভাষা সংরক্ষণে সচেষ্ট।

প্রশ্ন: জুমচাষ কী?

উত্তর: জুমচাষ পাহাড়ি এলাকার একটি কৃষিপদ্ধতি। এতে পাহাড়ের ঢালে ফসল উৎপাদন করা হয়। ম্রো ও ত্রিপুরারা এ চাষ করে। এটি তাদের জীবিকার প্রধান একটি অংশ।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস করে। তাদের নিজস্ব জীবনধারা রয়েছে। তারা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করেছে।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। তাদের ভাষা, পোশাক ও উৎসব বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। এটি আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। তাই তাদের সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করা উচিত।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: আমাদের সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করতে হবে। বৈষম্য করা উচিত নয়। সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

প্রশ্ন: সাঁওতালদের প্রধান পেশা কী?

উত্তর: সাঁওতালদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তারা ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে। অনেকেই পশুপালনও করে। তারা পরিশ্রমী জীবন যাপন করে।

প্রশ্ন: খাসিদের অতিথি আপ্যায়নের রীতি কী?

উত্তর: খাসিরা অতিথিকে আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করে। তারা পান, সুপারি ও চা পরিবেশন করে। অতিথিকে সম্মান করা তাদের ঐতিহ্য। এটি তাদের সংস্কৃতির একটি সুন্দর দিক।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পোশাকের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক রয়েছে। তারা উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব পোশাক পরিধান করে। পোশাকে রঙিন নকশা ও বৈচিত্র্য দেখা যায়। এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবদান কী?

উত্তর: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করেছে। তারা নিজস্ব ভাষা, শিল্প ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করছে। তাদের উৎসব ও সংস্কৃতি দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। তাই তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • রাবেয়া সুলতানা, শিক্ষক
    বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, ঢাকা