পরীক্ষার আগে সময় খুব বেশি বাকি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে এ সময়েই অনেকটুকু রিভিশন এগিয়ে রাখা সম্ভব।
পরীক্ষার আগে সময় খুব বেশি বাকি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে এ সময়েই অনেকটুকু রিভিশন এগিয়ে রাখা সম্ভব।

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: ঈদে কি পড়ব, না ছুটি কাটাব

বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২-১৩ লাখের মতো পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে জুন মাসে। এর আগে আগামী সপ্তাহ থেকেই আসছে ঈদুল ফিতর এবং মে মাসের শেষে ঈদুল আজহার ছুটি। তবে পরীক্ষার মাত্র অল্প কিছু দিন আগে এ সময়ও সঠিকভাবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবে, সময় নষ্ট করার সময় এখন আর হাতে নেই।

বিশেষ করে গত বছরের ফলাফল বিপর্যয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটা মারাত্মক সতর্কবার্তা তো বটেই! সামগ্রিক পাশের হার ও এ–প্লাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির অভাব, নিয়মিত অনুশীলন ও পরিকল্পনার ঘাটতি এর বড় কারণগুলোর একটি।

ঈদের ছুটির সময়টিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করতে পারে।

১. পরীক্ষার রুটিন ও সিলেবাস হাতে রাখা

পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরীক্ষার রুটিন ও সিলেবাস। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে এগুলো সব সময় রাখা উচিত। এতে কোন বিষয়ের পরীক্ষা আগে এবং কোন অধ্যায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা দ্রুত দেখে সব সময় পরীক্ষার স্ট্র্যাটেজি ঠিক রেখে আগানো যায়।

২. রিভিশনের জন্য শর্ট নোট তৈরি

ঈদের ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী বাড়িতে বা আত্মীয়দের বাসায় সময় কাটাবে। এ সময়ে ছোট ছোট সময় বের করে পড়তে পারলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যাবে। পড়ার সুযোগ পেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সূত্রগুলো একটি ছোট নোটবুকে লিখে রাখা ভালো। পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশনের জন্য এ ধরনের নোট খুবই কার্যকর।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনে এভাবেই আনন্দ উদযাপান করেন শিক্ষার্থীরা।

৩. গুরুত্বের ম্যাপিং করা

এ বছর ঈদের ছুটিই এইচএসসি পরীক্ষার আগে শেষ সময় যখন একজন শিক্ষার্থী ঠান্ডা মাথায় একটু কম পারা টপিকগুলো আয়ত্ত করতে পারবে। এরপরই কিন্তু শুরু হয়ে যাবে ফাইনাল রিভিশনের সময়। তখন আর নতুন করে কিছু পড়া যাবে না। তাই ছুটি শুরুর আগেই চেকলিস্ট বানিয়ে ফেলতে হবে ছুটিতে একজন শিক্ষার্থী কী কী পড়বে, সেটার।

৪. স্বাস্থ্যসচেতনতা

পরীক্ষার আগে অসুস্থ হওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সর্দি, গলাব্যথা বা জ্বর হতে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার:

—পর্যাপ্ত ঘুম।

—নিয়মিত খাবার।

—অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম খাবার এড়ানো।

—বেশি রোদে না থাকা।

এক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখাচ্ছে তাঁর মাকে

৫. মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস

অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দেখা যায়, পড়ার টেনশনেই পড়তে পারছে না। পরীক্ষার আগে অযথা দুশ্চিন্তা পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন শিক্ষার্থীর উচিত আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করা এবং সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করা যে ফলাফল ভালো হবে।

৬. ডিজিটাল শিক্ষাসহায়তার ব্যবহার

বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী ঘরে বসে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রিভিশন ও অনুশীলন করছে। যেমন টেন মিনিট স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ঈদের ছুটিতেও চলছে নিয়মিত ফ্রি রিভিশন লাইভ ক্লাস ও বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান। এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতির অগ্রগতি সহজে যাচাই করতে পারে কম সময়ে।

পরীক্ষার আগে সময় খুব বেশি বাকি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে এ সময়েই অনেকটুকু রিভিশন এগিয়ে রাখা সম্ভব। নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক রুটিন ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনা একদম ১০০–তে ১০০!

ঈদের সময় হুট করে অনিয়মিত রুটিন অনেক সময় শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বেশির ভাগই যেহেতু এখন কিশোর বয়সী, তাই অভিভাবকদের সচেতনতা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে আরও শক্ত করতে পারে। পরীক্ষার আগে সময় খুব বেশি বাকি নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে এ সময়েই অনেকটুকু রিভিশন এগিয়ে রাখা সম্ভব। নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক রুটিন ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনা একদম ১০০-তে ১০০!

*লেখক: ফারহান সাকিব, প্রোগ্রাম লিড, টেন মিনিট স্কুল