অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬। জীববিজ্ঞান ২য় পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন ‘টায়ালিন’ এনজাইম থাকে মুখের লালারসে

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

অধ্যায়–৩

চৌধুরী সাহেব এখন নিরামিষজাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন। হজমের সমস্যার কারণে তিনি আমিষজাতীয় খাবার খান না। এমনকি অতিরিক্ত তেল, চর্বি বা ঘিজাতীয় খাদ্যও পরিহার করেন।

প্রশ্ন

ক. পরিপাক কী?

খ. খাদ্য বিপাকে অগ্ন্যাশয় গুরুত্বপূর্ণ কেন?

গ. চৌধুরী সাহেবের গ্রহণকৃত খাদ্যের পরিপাক প্রণালি বর্ণনা করো।

ঘ. চৌধুরী সাহেবের অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহারের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে জীবদেহের বিপাকক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

খ. অগ্ন্যাশয় একাধারে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে এটি অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণ করে তাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট–জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ক্ষরণ করে। ফলে সহজেই বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

গ. চৌধুরী সাহেব নিরামিষভোজী। সুতরাং তাঁর পছন্দের খাবারগুলো কার্বোহাইড্রেট–জাতীয়। ভাত, রুটি, আলু মূলত কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় খাদ্য। নিচে কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় খাদ্যের পরিপাক বর্ণনা করা হলো:

মুখবিবরে পরিপাক: খাদ্য চিবানোর সময় লালাগ্রন্থি নিঃসৃত লালারস খাদ্যবস্তুর সঙ্গে মিলে খাদ্যকে নরম করে। লালারসে টায়ালিন নামক শর্করা আর্দ্রবিশ্লেষী এনজাইম পাওয়া যায়। টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সটিন অণুকে আর্দ্র বিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চে এবং ক্ষুদ্রতর ডেক্সটিন অণুতে রূপান্তরিত করে অবশেষে স্টার্চের অ্যামাইলেজ অংশ থেকে মলটোজ ও মলটোট্রায়োজ ও অ্যামাইলোপেকটিন অংশ থেকে মলটোজ, মলটোট্রায়োজ ও আইসোমলটোজ উৎপন্ন হয়। টায়ালিনের ক্রিয়া মুখবিবরে আরম্ভ হলেও এর পরিপাক প্রধানত পাকস্থলীতে সংগঠিত হয়।

পাকস্থলীতে পরিপাক: পাকস্থলীর পাচক রসে কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী এনজাইম নেই। তবে পাকস্থলী নিঃসৃত HCl কিছু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক: কার্বোহাইড্রেট–জাতীয় খাদ্য ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌছালে তা অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রসের ক্রিয়ায় পরিপাক হতে থাকে।

অগ্ন্যাশয় রসের ক্রিয়া:

১. অগ্ন্যাশয়িক অ্যামাইলেজ ক্লোরাইড আয়ন সামান্য ক্ষারধর্মী পরিবেশে স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সটিনকে আর্দ্র বিশ্লিষ্ট করে মলটোজ, মলটোট্রায়োজ ও লিমিট ডেক্সটিন নামক ডেক্সটিন অণু তৈরি করে।

২. মলটেজ এনজাইম মলটোজের ওপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে।

আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়া:

১. আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ: স্টার্চ, ডেক্সটিন প্রভৃতি পলিস্যাকারাইডকে আর্দ্র বিশ্লিষ্ট করে মলটোজ, মলটোট্রায়োজ ও ক্ষুদ্র ডেক্সটিনে পরিণত করে।

২. আইসোমলটেজ: আইসোমলটোজকে ভেঙে মলটোজ ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।

৩. মলটেজ: মলটোজকে ভেঙে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।

৪. সুক্রোজ: সুক্রোজ নামক ডাইস্যাকারাইডকে ভেঙে এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু ফ্রুক্টোজ উৎপন্ন করে।

৫. ল্যাকটোজ: দুধের ল্যাকটোজ নামক ডাইস্যাকারাইডকে ভেঙে এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু গ্যালাকটোজ উৎপন্ন করে। এভাবে প্রস্তুত মনোস্যাকারাইড পরবর্তী সময় শোষিত হয়।

ঘ. মানুষের পরিপাকগ্রন্থি নিঃসৃত এনজাইমগুলো বিভিন্ন খাদ্যবস্তুকে ভেঙে সেগুলোকে শোষণ উপযোগী করে। অনেক সময় দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের লিপিড–জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলোর ক্ষরণ কমে যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চৌধুরী সাহেবের পাচক রসে লাইপোজ, অগ্ন্যাশয় রসে লাইপোজ, লেসিথিনেজ ইত্যাদি ও পিত্তরসে পিত্ত–লবণের পরিমাণ কমে গেছে। এনজাইমগুলো লিপিড–জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে অংশগ্রহণ করে। যখন চৌধুরী সাহেবের পরিপাক গ্রন্থি থেকে লিপিড–জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এনজাইমগুলো ঠিকমতো ক্ষরিত হতো, তখন হজমে সমস্যা হতো না। বর্তমানে তাঁর পরিপাক গ্রন্থি থেকে লিপিড পরিপাককারী এনজাইমগুলো ঠিকভাবে ক্ষরিত হচ্ছে না। তাই তিনি লিপিড–জাতীয় খাদ্য হজমের সমস্যায় ভুগছেন এবং অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করছেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবারে কোলেস্টেরল থাকায় তা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। সুতরাং ওপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চৌধুরী সাহেবের অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার যৌক্তিক ছিল।

  • মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
    সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা