নাগরিক কবি শামসুর রাহমান
নাগরিক কবি শামসুর রাহমান

এসএসসি ২০২৬—‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন যেমন

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

কবিতা: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠী শুরু করে নানা বৈষম্যনীতি। তারা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার হীন ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু এ দেশের ছাত্র–শিক্ষকসহ আপামর জনতা তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, বিসর্জন দেন বুকের তাজা রক্ত।

প্রশ্ন

ক. কার সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল?

খ. জলপাই রঙের ট্যাংককে কবি দানব বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকের যে ভাবটি ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় পাওয়া যায়, তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘“তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা” কবিতায় বর্ণিত দিকগুলোর একটিমাত্র দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে’—মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল।

খ. মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ট্যাংকগুলো দানবের মতো ক্ষিপ্রতায় শহরে প্রবেশ করেছিল বলে কবি সেগুলোকে দানব বলে অভিহিত করেছেন। দানবের চরিত্রকে আশ্রয় করেই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সাঁজোয়া যানবাহন শহরে প্রবেশ করে। মনুষ্যত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে হত্যা করতে থাকে সাধারণ মানুষকে। ট্যাংকের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর এমন সহিংস কার্যক্রমকে লক্ষ করেই কবি সেগুলোকে দানব বলে অভিহিত করেছেন।

গ. উদ্দীপকের অন্যায়–অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার দিকটি ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় পাওয়া যায়।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম থেকেই শাসকগোষ্ঠী শুরু করে নানা ধরনের বৈষম্যনীতি। সব ক্ষেত্রেই তাদের এ বৈষম্যনীতি লক্ষ করা যায়। এ বৈষম্যের প্রতিবাদে এ দেশের আপামর জনগণ তীব্র বিক্ষোভ করেন। বিসর্জন দেন বুকের রক্ত। এ দিকটি ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায়ও প্রতীয়মান হয়। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তান সরকার। তার প্রতিবাদে এ দেশের ছাত্র-শিক্ষক-জনতা বিক্ষোভ করেন। প্রাণ দিতে হয় তাঁদের। আলোচ্য কবিতায়ও আমরা দেখি, পাকিস্তানিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ ও অকাতরে জীবন বিসর্জন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রকাশিত শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বাঙালির নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ আলোচ্য কবিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঘ. উদ্দীপকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় বর্ণিত দিকগুলোর একটিমাত্র দিককে ধারণ করে।

আলোচ্য কবিতায় বাঙালির ওপর পাকিস্তানিদের বর্বর আচরণের দিকটি উঠে এসেছে। পাকিস্তানিরা বাঙালিদের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। ফলে তারা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। বাঙালির ন্যায৵ সংগ্রামকে প্রতিহত করতে তারা রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়। আধুনিক অস্ত্র নিয়ে গণহত্যা চালায়, পুড়িয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে। তার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ও  শিক্ষকেরা আন্দোলন করেন এবং জীবন বিসর্জন দেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির হার না মানা মানসিকতার চিত্র এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় স্বাধীনতার জন্য মানুষের আকুলতা, প্রতীক্ষা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতার বহুমাত্রিকতা

ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার জন্য সাকিনা বিবির সম্ভ্রম হারানো, হরিদাসীর স্বামী হারানো, নবজাতকের মা–বাবা হারানোর দিকটি পরিস্ফুট হয়েছে। নিরীহ মানুষের ওপর পাকিস্তানিদের হত্যা ও নির্যাতনের বর্বর চিত্র পাওয়া যায়। এসবের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের অপরিসীম আত্মত্যাগ তাঁদের করেছে মহান।

কিন্তু উদ্দীপকে কেবল বাঙালির সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের দিকটি উঠে এসেছে, যা আলোচ্য কবিতার কেবল একটিমাত্র দিককে ধারণ করে আছে।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা