বাংলা: রচনা
∎ বাংলাদেশের জাতীয় পাখি/
দোয়েল পাখি/ আমার প্রিয় পাখি
সূচনা: যে পাখির শিস দেওয়া সুরেলা গান আমাদের মনকে আন্দোলিত করে, সেটি হচ্ছে দোয়েল। দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি।
আকৃতি: দেখতে ছোট ধরনের পাখি এটি। পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এরা। দেহ উজ্জ্বল কালো বর্ণের। এদের গলার নিচ থেকে বুক পর্যন্ত এবং ডানা বরাবর সাদা রেখা দেহের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। লেজে সাদা ও নীলের মিশ্রণ সত্যিই নয়নাভিরাম। শরীরের তুলনায় লেজ লম্বা।
বাসস্থান: বাড়ির আশপাশেই এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা ঘন বনজঙ্গল কিংবা খোলা জায়গায় সব সময় থাকতে ভালোবাসে না। তাই বসতবাড়ির আশপাশে ছোট গাছ কিংবা সবজির মাচায় বাসা বাঁধে। গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক, ঘরের চালের ফাঁকা জায়গা, সবজির মাচায় এরা বাস করে।
স্বভাব: সুরেলা কণ্ঠের সঙ্গে সঙ্গে কখনো কখনো বিচিত্র আওয়াজ ও অঙ্গভঙ্গি করেও আমাদের আনন্দ দিয়ে থাকে দোয়েল। শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায় এরা বেশি গান গায়। কখনো কখনো একই স্থানে বসে অনেকক্ষণ গান গায়। লেবুর ডালে কিংবা ঘরের চালে কিংবা সবজি মাচায় বসে লেজ উঁচিয়ে যখন গান গায় সত্যিই ভালো লাগে।
উপকারিতা: দোয়েলের গান, সৌন্দর্য আমাদের আনন্দ দেয়। আবার ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে।
গানের পাখি: দোয়েলকে গানের পাখি বলে। এর মিষ্টি সুরেলা শিস মনকে ভরিয়ে তোলে। এদের মিষ্টি সুরের গান, বিশেষ করে ভোরে ও দুপুরে মনকে বিমোহিত করে।
খাদ্য: পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গই সাধারণত এদের প্রধান খাবার।
জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েল: সবুজ প্রকৃতি আর মানুষের কাছাকাছি একেবারে মিশে থাকে এ পাখি। এসব কারণেই দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখির মর্যাদা পেয়েছে। দেশের সর্বত্র এ পাখি দেখা যায়।
উপসংহার: দোয়েল পাখি অন্যান্য পাখির মতোই সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। এ জন্য দোয়েল পাখি রক্ষা করা কর্তব্য।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা