ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ কমছে শিক্ষার্থীদের

গত নভেম্বরে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে জরিপ করে প্রথম আলো। দুই-তৃতীয়াংশই বলেছেন, অনলাইন ক্লাস ফলপ্রসূ হচ্ছে না।

করোনা সংক্রমণের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর অনলাইন ক্লাস শুরু হলে বেশ আগ্রহ নিয়েই ক্লাস করছিলেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসরাফিল। তবে ক্লাস ‘আকর্ষণীয় না হওয়া’ এবং উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা না থাকায় কিছুদিন যেতেই তিনি ক্লাস করা বন্ধ করে দেন।

ইসরাফিল বলেন, অনলাইন ক্লাসের এমন হালের মধ্যেই নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে আগের সেমিস্টারে কোনো পরীক্ষা হয়নি। বিগত সেমিস্টারের মূল্যায়ন কীভাবে হবে, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস নিয়ে কমবেশি এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। এই শিক্ষার্থীরা বলছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল। কারও ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার সামর্থ্য নেই, কারও আবার অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার মতো ডিভাইস নেই। দেশের সব এলাকায় ইন্টারনেটের গতিও ভালো নয়। সেখানকার শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে যথাযথভাবে অংশ নিতে পারেন না। ফলে দিন দিন অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থী কমছে।

গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে প্রথম আলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও মুঠোফোনের মাধ্যমে জরিপ করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৬৭ শতাংশ) বলেছেন, অনলাইন ক্লাস ফলপ্রসূ হচ্ছে না। তাঁরা ১০টি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে পড়াশোনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট অনুষদ আছে ১৩টি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৮ মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর হলে থাকা শিক্ষার্থীরা বাসায় চলে যান। সেশনজট এড়াতে অনলাইন ক্লাস শুরু হয় গত বছরের ৭ জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ৮৪টি বিভাগ ও ১২টি ইনস্টিটিউট। অধিকাংশ বিভাগ-ইনস্টিটিউটে অনলাইন ক্লাস চলছে৷

প্রথম আলোর জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে অনলাইন ক্লাসে পড়া ঠিকমতো বোঝা যায় না। অডিও-ভিডিও আটকে যায়। অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট-প্রেজেন্টেশন দিতে সমস্যা হয়। সার্বিকভাবে ক্লাস আকর্ষণী হয় না। তা ছাড়া ইন্টারনেট বাবদ একটা খরচ আছে। আবার ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতাও নেই। সব মিলিয়ে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্লাসে উপস্থিতি কমছে

প্রথম আলোর জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, শুরুর দিকে ক্লাসে উপস্থিতি বেশি ছিল। কিন্তু পরে তা ক্রমশ কমতে থাকে।

জরিপে অংশ নেওয়া কলা অনুষদের আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৪৬ জনের মধ্যে শুরুর দিকে অংশ নিতেন প্রায় ৮০ জন। পরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০। একই অনুষদের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ৭০ জনের মধ্যে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ১৫ থেকে ২০ জনে এসে ঠেকেছে। শুরুতে ছিল ৪০ জনের বেশি।

বিজ্ঞান অনুষদের গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুরুর দিকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতেন ১২০ জন। পরে তা ৮০ জনে নেমে আসে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ৫৫ জনের মধ্যে শুরুতে ২৫ জন অংশ নিতেন। পরে তা ১৫ জন হয়। একই অনুষদের অর্থনীতি বিভাগে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেছেন, ২১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শেষের দিকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতেন ৫০ জন।

আর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৮০ জনের মধ্যে শুরুতে ১১৫ জন অংশ নিতেন। পরে অংশ নেন ৯০ জন।

জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে অনলাইন ক্লাসে পড়া ঠিকমতো বোঝা যায় না। অডিও-ভিডিও আটকে যায়। অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট-প্রেজেন্টেশন দিতে সমস্যা হয়। সার্বিকভাবে ক্লাস আকর্ষণী হয় না। তা ছাড়া ইন্টারনেট বাবদ একটা খরচ আছে। আবার ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতাও নেই। সব মিলিয়ে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে।

শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কথা শিক্ষকেরাও বলেছেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, অনলাইন ক্লাসের শুরুর দিকে তাঁর বিভাগের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতেন। কিন্তু দিন দিন সেই আগ্রহে ভাটা পড়ছে।

সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারপারসন নমিতা মণ্ডল বলেন, শুরুর দিকে তাঁর বিভাগের ৮৫ শতাংশ উপস্থিতি ছিল। ধীরে ধীরে তা কমে ৪০ থেকে ৪২ শতাংশে নেমে আসে।

প্রথম আলোকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে যে পদ্ধতিতে আমরা ক্লাস নিই, সেখানে প্রশ্নোত্তর ও মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে সেটা নেই। আমার মনে হয়, শিক্ষার্থীরাও ক্লাস উপভোগ করছেন না। উপস্থিতির হার ক্রমাগত কমে যাওয়াটা তার প্রমাণ।’

এমন অবস্থার মধ্যে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ পরীক্ষা ছাড়াই বেশির ভাগ বিভাগে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে। নতুন সেমিস্টারেও উপস্থিতি বাড়েনি। আগের সেমিস্টারে কিছু কিছু বিভাগে অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর হয়তো দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা কম সময়ের ব্যবধানে নেওয়া হতে পারে।

স্বাভাবিক সময়ে যে পদ্ধতিতে আমরা ক্লাস নিই, সেখানে প্রশ্নোত্তর ও মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে সেটা নেই। আমার মনে হয়, শিক্ষার্থীরাও ক্লাস উপভোগ করছেন না। উপস্থিতির হার ক্রমাগত কমে যাওয়াটা তার প্রমাণ।
মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক

উপযুক্ত ডিভাইস নেই সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ডিভাইস কেনার সুবিধার্থে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আছেন প্রায় ৪৩ হাজার। ইউজিসি থেকে এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা চাওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮ হাজার ৫৫৬ জন শিক্ষার্থীর তালিকা দেয়।

গত বছরের জুলাই থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা ডিভাইস-সংক্রান্ত ঋণসুবিধা পাননি। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ডিভাইস কিনতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৮ হাজার টাকা করে ঋণসুবিধা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিমালা পাঠানো হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে।

ডিভাইস কেনার জন্য ঋণ পেতে আবেদন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইউজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া ঋণ আমি নেব। এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। তবে এই টাকা পরে ফেরত দেওয়া চাপ হয়ে যাবে। বরং অনুদান হিসেবে টাকাটা দিলে ভালো হতো।’

স্নাতকটা শেষ হলে চাকরির পরীক্ষাগুলোতে আবেদন করতে পারতাম বা ক্যারিয়ার নিয়ে বড় পরিসরে ভাবার সুযোগ পেতাম। করোনায় পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই৷ সব মিলিয়ে একটা তুমুল চাপ তৈরি হয়েছে৷
আবদুল করিম, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী

সেশনজটের আশঙ্কা

মার্চের শেষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এভাবে বন্ধ চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় থেকে সাত মাসের সেশনজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে এই সেশনজটকে সহনশীল করতে চিন্তাভাবনা চলছে।

অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল করিমের এ বছর স্নাতক শেষ হতো। করোনা পরিস্থিতি এসে তাঁর শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হলো। তিনি অনলাইনে ক্লাসও করছেন না। তাঁর পরিকল্পনা ছিল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই চাকরির আবেদন শুরু করবেন। পারিবারিকভাবে তিনি চাপেও আছেন। আবদুল করিমে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্নাতকটা শেষ হলে চাকরির পরীক্ষাগুলোতে আবেদন করতে পারতাম বা ক্যারিয়ার নিয়ে বড় পরিসরে ভাবার সুযোগ পেতাম। করোনায় পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই৷ সব মিলিয়ে একটা তুমুল চাপ তৈরি হয়েছে৷’

এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, মূলত স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীর এই সেশনজটে পড়তে পারে। এদিকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে এই অবস্থা যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য ক্যাম্পাস খোলার পর অতিরিক্ত ক্লাস, সেমিস্টারের দৈর্ঘ্য কমানো, ছুটি কমানোসহ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়েন।

অনলাইনে ক্লাস নিতে অনেক শিক্ষকই ভয় পাচ্ছেন। সেখানে শিক্ষকদের নিজস্ব মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান তত্ত্বীয় তর্ক-বিতর্ক করার মনস্কতা তৈরির স্বাধীনতা নেই।
জোবাইদা নাসরীন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকদের ভিন্নধর্মী ‘ভয়’

করোনা মহামারির আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক অনলাইনে ক্লাস নিতে খুব একটা অভ্যস্ত ছিলেন না। অনেক শিক্ষক অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। তবে শিক্ষকদের একটা অংশ ভিন্নধর্মী এক ভয়ের কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন, অনলাইনে ক্লাস নিতে গিয়ে স্বাধীন ও মুক্তভাবে মত প্রকাশ করার বিষয়ে তাঁরা চিন্তিত। এখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বিশেষ করে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকেরা বিভিন্ন আলোচনা ও অনলাইন সভায় এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্যই সমস্যা৷ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে ভয় পান। শিক্ষকেরাও আলোচনা করতে গিয়ে শঙ্কিত থাকেন। এই শঙ্কার জায়গা থেকে আমি কোনো রেকর্ডেড ক্লাস নিইনি।’

একই ধরনের শঙ্কায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অনলাইনে ক্লাস নিতে অনেক শিক্ষকই ভয় পাচ্ছেন। সেখানে শিক্ষকদের নিজস্ব মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান তত্ত্বীয় তর্ক-বিতর্ক করার মনস্কতা তৈরির স্বাধীনতা নেই। অন্তত ২৫ শিক্ষক অনলাইন ক্লাস নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তিনি বলেন, ‘ক্লাসে আমরা নানা মত উপস্থাপন করি। ক্লাস রেকর্ড করা হলে হয়তো লেকচারটি পরে ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়া হবে। পরে সেটি নিয়ে চলবে মামলাসহ নানা রাজনীতি। এই ভয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অনেক শিক্ষক ক্লাস রেকর্ডিং করেন না।’

কমতি উৎসাহ নিয়ে শিক্ষকেরা যা বলছেন

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও আগ্রহ কম বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগের চেয়ারপারসন। তাঁরা বলছেন, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাস করার আগ্রহ কম।

আরবি বিভাগের চেয়ারপারসন মো. আবদুল কাদির বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাস করার আগ্রহ কম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকেও উপস্থিতি বাড়ানোর কোনো নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়নি।’

বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারপারসন ফারজীন হুদা বলেন, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া কম হয়। ইন্টারনেট ডেটা কেনার সামর্থ্য সব শিক্ষার্থীর নেই। প্রথম দিকে যে উৎসাহ ছিল, তাতে ভাটা পড়েছে। শিক্ষার্থীরা টিউটরিয়ালে আসেন না। কেউ কেউ ফাঁকিবাজি করেন। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও অনলাইনে ক্লাস ফলপ্রসূ হচ্ছে না। কিন্তু সেশনজট এড়াতে এই উদ্যোগ চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারপারসন নমিতা মণ্ডল অবশ্য মনে করেন, শিক্ষার্থীদের সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হলে উপস্থিতি বাড়বে।

যে শিক্ষকের ক্লাস শিক্ষার্থীরা অফলাইনে উপভোগ করেন, একই শিক্ষকের ক্লাসই তাঁরা অনলাইনে উপভোগ করেন না। ক্লাস আকর্ষণীয় করতে নানা পদ্ধতি নিতে হয়। প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার থাকা উচিত।
অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর, ইউজিসি সদস্য

ইউজিসি যা বলছে

অনলাইন ক্লাসের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, অনলাইন ক্লাসে ইন্টারনেটের গতির সমস্যার ক্ষেত্রে ইউজিসি কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না। এটা বিটিআরসি-বিটিসিএলের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটররা ঠিক করতে পারবে। তিনটি মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে ইউজিসি সভা করেছে স্বল্প মূল্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইল সিম ও ইন্টারনেট প্যাকেজ দিতে।

অনলাইন ক্লাসগুলো আকর্ষণীয় করা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের বিষয় বলে মনে করেন মুহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, যে শিক্ষকের ক্লাস শিক্ষার্থীরা অফলাইনে উপভোগ করেন, একই শিক্ষকের ক্লাসই তাঁরা অনলাইনে উপভোগ করেন না। ক্লাস আকর্ষণীয় করতে নানা পদ্ধতি নিতে হয়। প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার থাকা উচিত।