অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি স্নাতকেরা চাকরি পেতে কেন ভোগান্তিতে

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের যোগ্যতা ও পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাচ্ছেন না। চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, কাজের অভিজ্ঞতার অভাব এবং ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা তাঁদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের গ্র্যাজুয়েট আউটকামস সার্ভেতে পূর্ণকালীন কর্মরত আন্তর্জাতিক স্নাতকদের বিষয়ে তথ্য উঠে এসেছে। স্নাতক পর্যায়ের ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন, তাঁদের চাকরিতে অর্জিত দক্ষতা বা শিক্ষার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ক্ষেত্রে এ হার ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

আবেদন করেও চাকরি পাননি ফিন্যান্সের স্নাতক

মেলবোর্নের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে ফিন্যান্সে স্নাতক শেষ করেন ২২ বছর বয়সী নি। আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে চাকরি পেতে ডেলয়েট, ইওয়াই, কেপিএমজি ও পিডব্লিউসির মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। প্রায় পাঁচটি সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেলেও কোনো চাকরি পাননি তিনি।

অভিজ্ঞতা ও ভিসা নিয়ে উদ্বেগ

নিয়োগদাতাদের স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার, অস্ট্রেলিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতার অভাব এবং অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। কিছু নিয়োগদাতা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের জন্য কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিসাসংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনা করেন।

কিছু বিষয়ে কর্মসংস্থানের হার বেশি

শ্রমবাজারের শ্লথ গতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবে আন্তর্জাতিক স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বিষয়ভেদে আলাদা।

২০২৫ সালের জরিপে আন্তর্জাতিক স্নাতকদের মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের হার সর্বোচ্চ চিকিৎসাবিদ্যায় ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া ফার্মেসিতে ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ, পুনর্বাসনবিষয়ক শিক্ষায় ৮১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ভেটেরিনারি সায়েন্সে ৭৬ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল।

শিক্ষার্থীদের আগেভাগে প্রস্তুতির পরামর্শ

ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লি ট্রান নিয়োগদাতাদের অস্থায়ী স্নাতক ভিসা এবং এর শর্ত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর কর্মজীবনবিষয়ক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।