কিরগিজস্তানে অধ্যয়নরত দেড় শতাধিক বাংলাদেশি মেডিক্যাল শিক্ষার্থী জুলাই ২০২৫ থেকে ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশে আটকে আছেন। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বেলা ১১টায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কিরগিজ ভিসা পোর্টালে স্টুডেন্ট ভিসা ক্যাটাগরি ‘উন্মুক্ত’ দেখালেও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন অনুমোদন করা হচ্ছে না। কিরগিজ সরকার কোনো অগ্রিম সতর্কবার্তা ছাড়াই ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে। শিক্ষার্থীরা একটি পূর্ণ সেমিস্টার হারিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকির মুখে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কারণে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসেন, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ফেরার সময় ভিসার আবেদন করলে তা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আটকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কিরগিজস্তান সফর করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
শিক্ষার্থীরা তাঁদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ভিসা অনুমোদন রুট তৈরি এবং কিরগিজস্তানে একটি এম্বেসি অথবা একটি দায়িত্বশীল কনস্যুলার বিভাগ চালু করার দাবি জানান তাঁরা।
সাধরিল হুদা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদবৃদ্ধির আবেদন করি। কিন্তু মেয়াদ বাড়ায়নি। এখন বলছে নতুন করে ভিসার আবেদন করতে। কিন্তু সে আবেদনও নিচ্ছে না। এর ফলে আমাদের শিক্ষাজীবনই হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সব স্থানে গিয়েছি এই সমস্যার সমাধানে, কিন্তু কোনো ফল পাইনি।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কিরগিজস্তানে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। উজবেকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসংশ্লিস্ট ভিসার কাজ করেন। আবার বাংলাদেশেও কিরগিজস্তানের দূতাবাস নেই। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কিরগিজস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসার কাজ সম্পন্ন হয়।