পে-কমিশনের সুপারিশ

সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানের শিক্ষা ভাতা ১৫০০ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ, টিফিনে ৮০০

নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। টিফিন ভাতা ৮০০ টাকা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন এ সুপারিশ করেছে।

গতকাল বুধবার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেন। জমা দেওয়া প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরগুলোয় ভাতা পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে। তবে শর্ত থাকে যে সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দুজন সন্তান এই সুবিধা পাবে। টিফিন ভাতার বর্তমানে প্রচলিত বিধানাবলি অব্যাহত থাকলে কমিশন ভাতার হার বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রচলিত মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকার স্থলে ১০০০ টাকা করা যেতে পারে।

গত ২৭ জুলাই ২০২৫ সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ করে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।