উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে ব্যাংক হিসাব খোলা, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানা এবং আর্থিক পরিকল্পনা—প্রথম সপ্তাহে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনকে সহজ করে তুলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ৭টি কাজ তুলে ধরা হলো—
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রথমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ক্যাম্পাস সুবিধা, শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা এবং একাডেমিক নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। নতুন ঠিকানায় ওঠার সাত দিনের মধ্যে সেটি প্রতিষ্ঠানকে জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।
২. স্থানীয় ব্যাংক হিসাব খুলুন
দৈনন্দিন খরচ, বাসাভাড়া পরিশোধ বা ভবিষ্যতে চাকরির বেতন গ্রহণের জন্য দ্রুত একটি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজনও কমে যায়।
৩. মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করুন
স্থানীয় সিম কার্ড বা মোবাইল প্ল্যান কিনে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নোটিশ, চাকরির সুযোগ এবং জরুরি বার্তা পেতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৪. গণপরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে জানুন
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য আলাদা ট্রাভেল কার্ড রয়েছে। যেমন: সিডনিতে ‘ওপাল কার্ড’ এবং পার্থে ‘স্মার্টরাইডার কার্ড’। বাস, ট্রেন ও ফেরি চলাচলের রুট এবং সময়সূচি জানা থাকলে যাতায়াত সহজ হয়।
৫. ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিন
কোর্স কাঠামো, বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয়তা, অ্যাসাইনমেন্টের সময়সীমা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় বইপত্র ও অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী।
৬. আর্থিক পরিকল্পনা ও কাজের প্রস্তুতি নিন
আবাসন, খাদ্য, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় মাসিক বাজেট তৈরি করা প্রয়োজন। যাঁরা খণ্ডকালীন চাকরি করতে চান, তাঁদের ট্যাক্স ফাইল নম্বর (TFN) সংগ্রহ করতে হবে। কিছু ধরনের কাজের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান বিজনেস নম্বর (ABN) প্রয়োজন হতে পারে।
৭. স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দিন
নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসা সুবিধা সম্পর্কে জেনে রাখা, জরুরি যোগাযোগ নম্বর সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। পাশাপাশি খেলাধুলা বা শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম কয়েক সপ্তাহে এসব মৌলিক বিষয় গুছিয়ে নিতে পারলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে।