
দীর্ঘদিনে দেশে বিদ্যালয় শিক্ষা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগের চেয়ে বেশি শিশু স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। নতুন নতুন শ্রেণিকক্ষ যোগ হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এগুলোতে সফলতা দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রটি এই গতির সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না। অনেক শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে শিখছে না। অনেকেই গণিতের মৌলিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারছে না। তারা পরীক্ষায় পাস করছে, সনদ পাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারছে না। তাই শেখার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য ভিশন প্রণয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত পর্যালোচনা কমিটির খসড়া প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে শেখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া ছাড়াও মোট পাঁচটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। বাকিগুলো হলো শিক্ষাক্রম, মূল্যায়ন, শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা।
অনুষ্ঠানে খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অনন্ত নীলিম। এ বিষয়ে আরও বক্তব্য দেন পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জিয়া হায়দার রহমান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, পরিবর্তনের নামে শিক্ষাব্যবস্থায় যে রূপান্তর ঘটছে, তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজস্ব পরিচয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, উপস্থাপিত প্রতিবেদন কোনো নির্দিষ্ট সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এগুলো একটি সমন্বিত আলোচনার ফল।
সরকারি দায়িত্ব শেষ হলে আবারও নাগরিক সমাজভিত্তিক কার্যক্রমে ফিরে যাবেন বলে জানান সি আর আবরার। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব তাঁকে নতুন কিছু বিষয় ও প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সহকর্মীদের উত্থাপিত নানা বিষয় ভবিষ্যৎ অ্যাডভোকেসি ও নীতিগত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই আলোচনা কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন-বিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন প্রমুখ।