প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন

সরকার অবগত, সময় হলে সিদ্ধান্ত: বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি সরকার অবগত আছে এবং সময় হলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘নকল-প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না। অতীতে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল; নকল আর প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না বলে আমার বিশ্বাস। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করতে সমন্বিত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিকুলাম পর্যালোচনা করা হবে, ডিজিটাল লিটারেসি ও ইংরেজি দক্ষতায় গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী ন্যানো টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ লেখাপড়া শেষে কর্মসংস্থান, তার আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সাজানো হবে।’

যেকোনো পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বিশ্বে উন্নত দেশগুলো যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করব
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাকডেটেড’ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এগোনো যাবে না। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ—আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা ও আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে কে কী করেছে, তার জবাবদিহি আমরা দেব না। তবে আমাদের বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি হয়নি এবং এবারও হবে না। এমপিওভুক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।’ বেসরকারি শিক্ষকদের কম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সরকার অবগত আছে। সময় হলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে উন্নত দেশগুলোর অনুসৃত বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে ইতিহাসের বই তৈরিতে একাধিক স্তরের ইতিহাসবিদদের মতামত নিয়ে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ করা হবে। অতীতের ভুল নিয়ে না ভেবে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য।’

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মাঝে মাঝেই আলোচনা হবে এবং জবাবদিহির মধ্যেই কাজ করা হবে। আমরা মাত্রই দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এটুকু পরিষ্কার করে বলতে পারি, যেকোনো পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বিশ্বে উন্নত দেশগুলো যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করব।’

এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালকেরা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।