ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থী মহারাষ্ট্রের, কেন্দ্র আবুধাবিতে

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (পুনঃ নিট) অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল রোববার (২১ জুন ২০২৬)। কিন্তু মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুর জেলায় এক শিক্ষার্থীর এই পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির একটি বিদ্যালয়ে। তাঁর প্রবেশপত্রে ভিনদেশি একটি কেন্দ্রে সিট পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

দ্য হিন্দুকে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালিব পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পর দেখতে পান, তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র ভারতের পরিবর্তে আবুধাবির একটি স্কুলে নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ তিনি নাগপুর থেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এ ছাড়া দেশের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্র পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরীক্ষাকেন্দ্র অন্য দেশে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন আবদুল্লাহ। কারণ, তাঁর কোনো পাসপোর্ট নেই। ফলে বিদেশে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রবেশপত্রের একটি ছবিতে আবুধাবির ভারতীয় স্কুলকে পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি এনটিএর নজরে আনা হলে এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পরিবার বলছে, আবেদন করার সময় আবদুল্লাহ পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নাগপুর, ওয়ার্ধা ও ভান্ডারা শহরকে পছন্দের তালিকায় রেখেছিলেন। কিন্তু প্রবেশপত্রে আবুধাবিতে তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র দেখানো হয়।

আবদুল্লাহর বাবা চিকিৎসক মোহাম্মদ তালিব বলেন, ‘প্রবেশপত্র দেখে আমরা হতবাক হয়ে গেছি। আমার ছেলে কাঁদতে শুরু করেছিল। তার তো পাসপোর্টই নেই।’

এনটিএ জানায়, অভিযোগটি যাচাই করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষার্থীকে নাগপুরে একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং সংশোধিত প্রবেশপত্র ইস্যু করা হবে।

এদিকে দ্বিতীয়বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় সাময়িকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম ইতিমধ্যে বন্ধ করেছে ভারত। ২১ জুন লাখ লাখ শিক্ষার্থী ন্যাশনাল ইলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট–আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (এনইইটি বা নিট-ইউজি) নামে ওই পরীক্ষায় আবার অংশ নেবেন। এর আগে গত মে মাসে পরীক্ষাটি হওয়ার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেটি বাতিল করা হয়।

পরীক্ষাটি পরিচালনা করে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।

৩ মে ভারতজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি কেন্দ্রে নিট-ইউজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষা শেষে কয়েক দিনের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে এনটিএ পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় বিজেপি সরকার। বিষয়টি তদন্ত করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। এ ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। সেবার হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অস্বাভাবিক বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। এ ছাড়া গ্রেস নম্বর (বাড়তি নম্বর) দেওয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় তখন নিট পরীক্ষা ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে।