বেশির ভাগ স্কুলে বছরের শুরুতে নতুন বই পৌঁছায়নি
বেশির ভাগ স্কুলে বছরের শুরুতে নতুন বই পৌঁছায়নি

বিনা মূল্যের বই

বই সরবরাহ প্রায় শেষ, এখনো বাকি ৩০ লাখের বেশি

নানা সংকটের পর অবশেষে শিক্ষাবর্ষ শুরুর ২৪ দিনের মাথায় এসে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই সরবরাহের কাজ প্রায় শেষ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে এখনো ৩০ লাখের বেশি বই সরবরাহ বাকি রয়েছে। এর অধিকাংশই সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই, যেগুলো নিয়েই এবার সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছিল। প্রাথমিক স্তরের বই সরবরাহ আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষার্থী সব বিষয়ের বই হাতে পাবে, তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এনসিটিবির সূত্রমতে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৩০ কোটি ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবই ২১ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৪ কপি। ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এর মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে ২১ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি বই। এখনো সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি ৩০ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি বই, যা মোট বইয়ের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাকি থাকা বইয়ের মধ্যে ১৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সপ্তম শ্রেণির এবং ১০ লাখ ১৭ হাজারের বেশি অষ্টম শ্রেণির।

এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, আজকের হিসাবটি যোগ হলে আর সামন্য কিছু বই বাকি আছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় সব বই সরবরাহ হয়েছে। অল্প যে কিছু বই বাকি আছে, তা–ও দু-এক দিনের মধ্যে সরবরাহ হয়ে যাবে।

করোনাকাল এবং দু-এক বছরের ব্যতিক্রম ছাড়া দেড় দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল। নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের স্বস্তি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষাবর্ষ শুরুর একটি পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছিল। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নিয়মিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করে এসেছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সুযোগ পেলেও একবারও বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে গত বছর শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর সব বই সরবরাহে সময় লেগেছিল প্রায় তিন মাস, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্ষতির কারণ হয়।