
শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে আর রাজপথে আসতে হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না।’
আজ রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগসহ বিভিন্ন রকম অভিযোগের কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করা, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট গতিশীল করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল চালু করা, এনটিআরসিএর নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবি প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, ঈদ বোনাস (উৎসব ভাতা) ছিল ২৫ শতাংশ। ১৭ বছর পর এই বোনাস অন্তর্বর্তী সরকার ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ করেছে। তিনি বলেন ‘শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়গুলো বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো আমরা পর্যালোচনা করব। আপনাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে। যেহেতু এটি নতুন বাজেট নয়, তারপর এগুলো কার্যকর করতে সময় লাগবে।’
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এনটিআরসিএ আমার একক কষ্টের ফসল ছিল। এখন এটার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা বুঝে দেখব, রিভিউ করে দেখব, কোন কোন জায়গায় আবার আমাদের এটা রিসেক্ট (পুনর্গঠন বা সংস্কার) করতে হবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আপনারা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছেন, ৬৪ জেলায় একজনও সৎ লোক নেই। এটা একটা সিরিয়াস চ্যালেঞ্জ। ঠিক আছে, প্রতিমন্ত্রীও বললেন আর আমার রেকর্ডটা আপনারা জানেন, আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না। আমিও করি না, আমার প্রতিমন্ত্রীও করেন না। আমরা দুজন শপথ করেছি, দুর্নীতি করব না। কিন্তু আমাদের আরেকটা শপথ আছে, করতে দেব না।’
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে বসা আমাদের এজেন্ডায় আছে। আমরা আস্তে আস্তে এসব নিয়ে বসব।’
এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিকরণ ও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।