
নাজনীন হাসান চুমকী, ফারজানা ছবি ও রাখাল সবুজ—এবারই প্রথম এই তিন অভিনয়শিল্পী মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের সমালোচক বিভাগে সেরা অভিনয়শিল্পীর মনোনয়ন পেয়েছেন। আর প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েই সমালোচকদের রায়ে সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছেন তাঁরা তিনজন।
কাজী মোরশেদ পরিচালিত ‘একই বৃত্তে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সমালোচক বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন চুমকী। মাতিয়া বানু শুকু পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’ নাটকে অভিনয়ের জন্য সেরা টিভি অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন ফারজানা ছবি। মহম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘শিখণ্ডী কথা’ ছবির জন্য সেরা চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন রাখাল সবুজ। তিনি ছাড়াও সেরা চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ। ‘মৃত্তিকা মায়া’ ছবির জন্য সমালোচকদের রায়ে তাঁকে সেরা অভিনয়শিল্পী নির্বাচিত করা হয়।
প্রথম আলোকে নাজনীন চুমকী বলেন, ‘২৫ এপ্রিল রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সমালোচকদের রায়ে আমাকে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই সবাই এসএমএস ও ফোনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।’
চুমকী এও বলেন, ‘এবারই প্রথম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। তাও আবার সমালোচকদের রায়ে। আমার নামটি ঘোষণার মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য বোকা হয়ে গিয়েছিলাম। সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার ধারণা ছিল, পুরস্কারটি মৌসুমী আপা (চিত্রনায়িকা) পাবেন। আমি কৃতজ্ঞ ‘‘একই বৃত্তে’’ ছবির পরিচালক কাজী মোরশেদ, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও আমার সব সহশিল্পীর কাছে। পরিচালক ও প্রযোজক যদি আমাকে এই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ না দিতেন, তাহলে হয়তো পুরস্কার পাওয়াই হতো না। আর যদি সহশিল্পীদের সবাই সহযোগিতা না করতেন, তাহলে অভিনয়টাই হয়তো সঠিকভাবে করতে পারতাম না। কাজ করি, কাজের জন্য। ভালোবেসে কাজ করার পর যদি স্বীকৃতি পাওয়া যায় সেটা সত্যিই অনেক বড় পাওয়া।’
ফারজানা ছবি বলেন, ‘অনুষ্ঠানস্থলে নাম ঘোষণার সময় আমার মধ্যে উত্কণ্ঠা কাজ করছিল। ছিল উত্তেজনাও। মঞ্চে যখন উঠলাম তখন কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি মনে করি, স্বীকৃতি একজন মানুষকে নিজের কথা বলার উপলব্ধির ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আমি অভিনয় নিয়ে অনেক সংগ্রাম করেছি। মেরিল-প্রথম আলো আমাকে সেই সংগ্রামের পুরস্কার দিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে রাখাল সবুজ বলেন, ‘আমি নির্মাতা মাহমুদ দিদারের সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছি। আমার ইচ্ছা নির্মাতা হওয়ার। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যুক্ত আছি আমি। এ দলটির প্রযোজনা ‘‘শিখণ্ডী কথা’’ নাটকে অভিনয় করেছি। মঞ্চের বাইরে ছোট পর্দা ও বড় পর্দা মিলে ‘‘শিখণ্ডী কথা’’ আমার প্রথম অভিনয়। প্রথম অভিনয়ে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সমালোচক বিভাগে মনোনয়ন। আর প্রথম মনোনয়নে পুরস্কার জিতে নেওয়ার ব্যাপারটি স্বপ্নের মতো। আরও বেশি অবাক হয়েছি একই বিভাগে আমি আসাদ ভাইয়ের (রাইসুল ইসলাম আসাদ) মতো গুণী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে পুরস্কার পেলাম বলে। সত্যিই পুরো সময়টা ঘোরের মধ্যে ছিলাম।’
প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে ঢাকার মঞ্চ নাটকের দল ‘দেশ’ নাটকের সঙ্গে যুক্ত হন নাজনীন হাসান চুমকী। দলটির ‘লোহা’ প্রযোজনার মাধ্যমে অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। ২০০৩ সালে চুমকী মঞ্চ নাটক থেকে বিদায় নেন। ২০১০ সালে ‘সীতার অগ্নিপরীক্ষা’ নাটকটির মাধ্যমে আবার মঞ্চে ফেরা হয় তাঁর। তিনি বর্তমানে মঞ্চ, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন।
অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘চিঠি’ নাটকের মাধ্যমে ফারজানা ছবির অভিনয়ে অভিষেক হয়। মাঝে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবার অভিনয়ে নিয়মিত হন তিনি। আর রাখাল সবুজ মূলত পর্দার পেছনের মানুষ। নির্মাতা মাহমুদ দিদারের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। ‘শিখণ্ডী কথা’র মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান রাখাল সবুজ।