
টেলিভিশনের পাশাপাশি এবারের ঈদে শুধু ইউটিউবের জন্যই বানানো হয়েছিল নাটক ও ওয়েব ছবি। দর্শক সময়-সুযোগ করে দেখে নিচ্ছেন সেগুলো।
গত ঈদুল আজহার আগে আগে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ইউটিউব চ্যানেল রঙ্গন ফিল্মস। আটটি নতুন নাটক ছাড়া হয়েছে এই চ্যানেলে। তরুণ নির্মাতাদের তৈরি নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন দেশের নামকরা তারকারা। বুধবার কথা হলো চ্যানেলটির স্বত্বাধিকারী হাসিব হাসান চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুরুতে সাবস্ক্রাইবার ছিল ৩০০-এর মতো। নাটকগুলো দেওয়ার পর থেকে আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়েছে। এটা দিনে দিনে বাড়ছে। নাটকগুলোও সবাই খুব পছন্দ করেছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, বেড সিন এবং মানুষ হবো নামের নাটকগুলোতে দর্শকের সাড়া পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি।’ ইউটিউবে গতকাল সন্ধ্যা সাতটা অবধি নাটকগুলো দেখা হয়েছে যথাক্রমে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৪২৯,৪ লাখ ৭০ হাজার ২২২ এবং ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫৭ বার।
শুধু রঙ্গন ফিল্মসই নয়, ইউটিউব চ্যানেল সারোয়ার টিউব, ক্লাব ১১ এন্টারটেইনমেন্ট, সাগর অ্যান্ড ব্রাদার্স, ধ্রুব টিভি, সিএমভি, ওজন এন্টারটেইনমেন্ট, ডেডলাইন, গানচিলসহ বেশ কিছু চ্যানেলে নিয়মিত দেওয়া হয় নতুন নতুন নাটক ও ওয়েব সিরিজ। ঈদ উপলক্ষে বেশির ভাগ চ্যানেলেই ছাড়া হয়েছিল নতুন নাটক ও ওয়েব সিরিজ। সব মিলিয়ে ২০ টির বেশি হবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের প্রচারণা ও বিষয়বস্তু উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা মোশন রক এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার মাসুদুল হাসান। এর মধ্যে বেশির ভাগ নাটক গড়ে দেখা হয়েছে (ভিউ) ৪ থেকে ৫ লাখ বার।
ঈদ উপলক্ষে ছেলেরাও কাঁদে (৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪১ ভিউ) নামে একটি নাটক ছাড়া হয়েছে সারোয়ার টিউব চ্যানেলে। এই নাটকও দর্শক পছন্দ করেছেন বলে জানালেন চ্যানেলটির মালিক সারোয়ার বাপ্পি। বললেন, ‘এ বছরের শুরুর দিকে আমরা চ্যানেলটি শুরু করি। তারপর থেকে ছয়টি কনটেন্ট আপলোড করেছি। সব কটিতেই বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।’
একই মত সাগর অ্যান্ড ব্রাদার্স ইউটিউবের স্বত্বাধিকারী সাগর আহমেদের। এই চ্যানেলে এবার একটি নাটক ও একটি ওয়েব ছবি আপলোড করা হয়েছে। রক্তের রং লাল নামের নাটকটি নির্মাণ করেছেন মাবরুর রশীদ এবং জনি পিটার নামের ওয়েব ছবিটি নির্মাণ করেছেন আহমেদ জিহাদ। দুটিতে বেশ সাড়া পেয়েছেন বলে জানান সাগর।
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ৯টি নাটক নির্মাণ করেছেন মাবরুর রশীদ। বললেন, এখন এটা ভেবে ভালো লাগছে যে কনটেন্টকে কনটেন্ট হিসেবে বিচার করা হচ্ছে। অনলাইনের জন্য কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কাজটা ভালো হলো না খারাপ হলো তা দর্শকেরা দেখে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দেন। সবচেয়ে বড় কথা, টিভি বা অনলাইন দুই জায়গাতেই ভালো ভালো গল্পের নির্মাণ হচ্ছে।
অনলাইনের জন্য বেশ কয়েকটি নাটক নির্মাণ করেছেন তপু খান। বললেন, অনলাইনের কাজ করার সুবিধা হলো, মনের মতো করে কাজটা করা যায়। খুব তাড়াতাড়ি দর্শকের কাছে পৌঁছায়। আরেক নির্মাতা কাজল আরেফিন বলেন, টেলিভিশনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। অনলাইনে সেসব নেই। একই সঙ্গে অনলাইনের জন্য বাজেট বেশি থাকার ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যায়। এ ছাড়া অনলাইনে প্রচারণার জন্য ব্যয় থাকে বেশি। তাই সাড়াও পাওয়া যায় বেশি।
সব মিলিয়ে ঈদে টেলিভিশনের পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেলেও প্রচারিত হচ্ছে। এ কারণে ঈদ শেষ হওয়ার পরপরই সব কটি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন কনটেন্ট নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।