বিশ্বসংগীত

ঝরা 'তারা'র জন্মদিনে

কার্ট
কার্ট

কার্ট কোবেইন বেঁচে থাকলে এ বছর তাঁর বয়স হতো ৫০। কার্ট কোবেইন নিরভানা ব্যান্ডের মূল সারথি। ১৯৯৪ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি চলে গিয়েছিলেন এই পৃথিবী ছেড়ে। ইচ্ছামৃত্যু কী? বলাই যায়। দীর্ঘদিন হেরোইনে আসক্তির পাশাপাশি তীব্র হতাশায় ভুগে মাত্র ২৭ বছর বয়সে ইচ্ছামৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন কার্ট কোবেইন। জিম মরিসন, জিমি হেনড্রিক্সসহ ক্ষণজন্মা শিল্পীদের মতো কোবেইনও ক্লাব টোয়েন্টি সেভেনের অন্যতম সদস্য, যাঁরা সবাই মাত্র ২৭ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন। এই ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর ৫০তম জন্মদিন।
কার্ট কোবেইন জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে। মেকানিক বাবা আর ওয়েট্রেস মায়ের প্রথম সন্তান তিনি। তবে পরিবারে সংগীতের আবহ ছিল সব সময়ই। মামার নিজের একটি ব্যান্ড ছিল, খালা বাজাতেন গিটার। সে জন্যই হয়তো দুই বছর বয়স থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা তাঁর। নয় বছর বয়সে বাবা আর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর থেকে বড় রকমের ওলট-পালট চলে আসে তাঁর জীবনে। কিছুদিন বাবার সঙ্গে, কিছুদিন মায়ের সঙ্গে—এভাবেই কাটছিল জীবন। স্কুলে ছিলেন সবার চেয়ে আলাদা, শেষ পর্যন্ত স্কুলই ছেড়ে দিলেন, বাড়ি থেকে নির্বাসিত হলেন। বাড়ি ছেড়ে থাকার সেই দিনগুলোতে তিনি রাত কাটাতেন উইস্কা নদীর ওপর গড়ে ওঠা একটি ব্রিজের নিচে। সেই স্মৃতি থেকে লিখেছেন গান, ‘আন্ডারনিথ দ্য ব্রিজ, দ্য টার্প হ্যাজ স্প্রাং আ লিক...’

কার্ট কোবেইনের অনেক গানের অনুপ্রেরণা আসলে জীবনের এই টুকরো টুকরো গল্প নিয়েই। মাত্র ২৭ বছরের ছোট্ট জীবনে অনেক আনন্দ-বেদনা-অভিমান-ভালোবাসার শুরু থেকে শেষ দেখেছেন, গানের কথা লিখেছেন আর গেয়েছেন সেই অনুভূতি নিয়ে। জীবনের প্রথম ভালোবাসার মানুষ ট্রেসি মারেন্ডারকে নিয়ে লেখা গান ছিল ‘অ্যাবাউট আ গার্ল’। কার্টের মৃত্যুরও বেশ কয়েক বছর পর ট্রেসি জানতে পেরেছিলেন গানটি তাঁকে নিয়ে লেখা।

কার্টের মৃত্যুর পর কেটে গেছে ২৩ বছর, এখনো তাঁর গান বুকে আগুন জ্বালায় হাজার তরুণের, তাঁর দেখানো পথ ধরেই গ্রাঞ্জ আর অলটারনেটিভ রক জায়গা করে নিয়েছে মানুষের মনে আর কানে। ‘স্মেলস লাইক টিন স্পিরিট’ বা ‘হার্ট শেপড বক্স’ শুনে গানকেই নেশা বানিয়েছেন অনেকে। তাঁর তৈরি ব্যান্ড দল নিরভানা দিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন রক ধাঁচের গানের ইতিহাস। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই রক গানের বিবর্ধন ঘটেছে, রক গান বিস্তৃত হয়েছে অনেক দূর। এখনকার অনেক শিল্পী, সুরকারই তাঁর গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। মেটালিকার লারস উলরিক, জে-জি, লানা ডেল রয়, এমিনেম গানের কথায় তাঁর ‘টিন স্পিরিট’-কে বাঁচিয়ে রেখেছেন এখনো। নিরভানার ১৯৯১ সালের অ্যালবাম নেভারমাইন্ড এখনো রক সংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত অ্যালবামগুলোর একটি।

এখনো যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে কার্ট কোবেইন নিশ্চয়ই আরও আলো ছড়াতেন। রক গানের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করতেন। জন্মদিনের মাসে তাঁর জন্য রইল অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

নাজিয়া শারমিন

স্ট্রেইটসটাইমস, মিউজিক নিউজ অবলম্বনে