
এবার ঈদে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পেয়েছে চারটি চলচ্চিত্র। বছরজুড়ে দর্শকখরা কাটিয়ে এই সময়টায় আশায় বুক বাঁধেন হলমালিকেরা। ঈদের ছবিগুলো সেই আশা কতটা পূরণ করতে পেরেছে, তা জানতেই দেশের বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহে ঢুঁ মেরেছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা। ধারাবাহিকভাবে সেই চিত্রই তুলে ধরা হচ্ছে। আজ থাকছে বগুড়া ও সিলেটের প্রেক্ষাগৃহে ঈদের ছবির ব্যবসার খবর।
বগুড়া: একমাত্র প্রেক্ষাগৃহ দর্শকশূন্য
বগুড়া জেলা শহরের একমাত্র প্রেক্ষাগৃহ সোনিয়া সিনেমা হলে ৮০০ দর্শক বসার ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে শাকিব খান-বুবলীর ক্যাপ্টেন খান প্রদর্শিত হচ্ছে এই প্রেক্ষাগৃহে। কিন্তু ঈদের মৌসুমেও দিনের বেলা ধারণক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশ দর্শক হলেও দর্শকের অভাবে রাতের শো বন্ধ রাখতে হয়েছে কয়েক দিন।
হলের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন চারটি শোই ছিল প্রায় দর্শকশূন্য। দ্বিতীয় দিন দুপুর ও বিকেলের শোতে কিছু দর্শক এলেও সন্ধ্যায় দর্শক কমতে থাকে। রাতের শোতে দর্শক হয়েছিল ৮-১০ জন। ফলে শো বন্ধ ঘোষণা করতে হয়। সোনিয়া হলের মালিক বলেন, ‘দর্শকখরায় প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসা লোকসানে। নিচতলার শপিং কমপ্লেক্স ভাড়ার টাকা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহ চালু রেখেছি। ঈদের ছবিতে দর্শক হলে ফিরবেন-এমন আশায় বুক বেঁধে থাকি সারা বছর।’ গত রোববার বিকেলের শোতে প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে ঢুঁ মেরে দেখা গেল, সোফা শ্রেণি দর্শকশূন্য। বিলাস ও শৌখিন শ্রেণির আসনে ৪০-৪৫ জন দর্শক। গোটা হলে কোনো নারী দর্শক নেই। হলের দ্বাররক্ষী আবুল হোসেন বলেন, ‘দুই যুগ ধরে এখানে চাকরি করছি। এবারের ঈদের মতো এতটা দর্শকশূন্য শো অন্য কোনো ঈদে দেখিনি।’
সিলেট: কোনো শো হাউসফুল হয়নি
এবারের ঈদে সিলেটের একমাত্র প্রেক্ষাগৃহ নন্দিতা সিনেমা হলের সামনে তেমন জটলা দেখা যায়নি। হলের পরিচালকও জানালেন, ঈদের দিন থেকে গত শনিবার পর্যন্ত কোনো শো হাউসফুল হয়নি। নন্দিতা সিনেমা হলের ভেতরের প্রায় সব আসন ফাঁকা। তবে নগরের আখালিয়ার বিজিবি মিলনায়তনে দর্শকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। অডিটরিয়ামের প্রবেশমূল্য বেশি হওয়ায় দর্শকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শনিবার বেলা দুইটায় নগরের তালতলা এলাকার নন্দিতা সিনেমা হলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ২০-২৫ জন লোকের জটলা। হলে প্রদর্শিত হচ্ছে মাহিয়া মাহি ও কলকাতার বনি সেনগুপ্তর মনে রেখো ছবিটি। নগরের শেখঘাট এলাকার বাসিন্দা রাশেদ খান নামের এক তরুণ বলেন, ছবি দেখে ভালো লেগেছে। তবে হলের ভেতরের পরিবেশ ঠিক না করলে দর্শকসমাগম হবে না।
বেলা তিনটার দিকে বিজিবি অডিটরিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, হলের বাইরে টাঙানো হয়েছে শাকিব খানের ক্যাপ্টেন খান ছবির পোস্টার। মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রাহুল আহমদ বলেন, টিকিটের গায়ে কোনো মূল্য লেখা নেই। তবে কাউন্টারের সামনে লেখা আছে ১০০ ও ১২০ টাকা। এ নিয়ে টিকিট কাউন্টারে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে বচসা হয় তাঁর। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ১০০ টাকা দিয়েই টিকিট কিনতে হয়েছে। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা আসলাম জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন একটি শো হাউসফুল হয়েছে। এখন দর্শক উপস্থিতি ভালোই। তিনি বলেন, ঈদের সময় ছবি আনতে হলে বাড়তি খরচ লাগে। সে জন্যই টিকিটের দাম একটু বেশি রাখতে হচ্ছে।
[প্রতিবেদনটি করেছেন আনোয়ার পারভেজ, বগুড়া ও মানাউবী সিংহ, সিলেট]