
প্রকাণ্ড প্রাসাদ, বিশাল বাইজিমহল আর জবরজং চকমকে পোশাকের দেবদাস ছবিটির কথা এখনো ভোলেনি অনেকে। মাঝে সাদামাটা ব্ল্যাক আর কালো-নীলে ঘেরা সেটে সাওয়ারিয়া ছবি বানালেও সঞ্জয়লীলা বানশালি বাজিরাও মাস্তানি দিয়ে ফিরছেন তাঁর আগের রূপে। আবারও তিনি তৈরি করছেন বড় বাজেটে, বড় সেটে, বড় আকারের ছবি। কেমন বড়, তা তো বোঝা যাবে বাজিরাও মাস্তানির গভীরে গেলেই।
এখন ভারতীয় সব গণমাধ্যমে বিনোদন বিভাগের শিরোনামেই বাজিরাও মাস্তানি ছবির কথা। কখনো এর শিল্পীরা হচ্ছেন খবরের শিরোনাম, কখনো ছবিটি হামলা-মামলার কবলে পড়ে উঠে আসছে খবরে। ছবিটি নিয়ে শুটিংয়ের অনেক আগে থেকেই নানা তর্ক-বিতর্ক ছড়িয়েছে। শুরুটা হয় ছবির পাত্রপাত্রী নিয়ে। কথা ছিল মারাঠা অধিপতি পেশওয়া বাজিরাওয়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন সালমান খান। কিন্তু না, শেষমেশ বাজি মারলেন রণবীর সিং। সঞ্জয়লীলা বানশালি তাঁর হাম দিল দে চুকে সানাম ছবির চঞ্চল ‘সামির’-এর বদলে বেছে নিলেন রামলীলার দুষ্টু ‘রাম’কে। আর নায়িকা হিসেবে তো দীপিকা পাড়ুকোন আগেই নিজের জায়গা পোক্ত করেছিলেন। তা ছাড়া রামলীলা ছবিতে দুর্দান্ত একটি আইটেম গান উপহার দেওয়ার বদলে ‘কাশিবাঈ’ হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার চরিত্রটিও নির্দিষ্ট করা ছিল অনেক আগে থেকে।
বাজিরাও মাস্তানি ছবিটি গল্প আর দৃশ্যায়নের দিক থেকে যেমন নাটকীয়, তেমনই ক্যামেরার পেছনেও এর অনেক নাটুকে গল্প রয়েছে। পরিচালক সঞ্জয়লীলা বানশালি খোদ স্বীকার করেছেন, শুধু ছবির নায়ক আর নায়িকার পরিশ্রম দেখলে হবে না। ছবির আসল তারকা কিন্তু ক্যামেরার পেছনের মানুষেরা। যেমন ছবির পোশাক ডিজাইনার অঞ্জু মোদির কথাই ধরা যাক। সঞ্জয়লীলা বানশালির সঙ্গে তিনি প্রথম কাজ করেন গোলিও কি রাসলীলা: রাম-লীলা ছবিতে। ভারতের দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে অঞ্জুর ধারণা দেখে তখনই মুগ্ধ হন বানশালি। তখনই তাঁকে জানান বাজিরাও মাস্তানির কথা। আর অঞ্জু তখন থেকেই এ ছবির জন্য গবেষণা শুরু করেন। দেড় বছর ভারতের নানা রাজ্য ঘুরে বাজিরাও, মাস্তানি আর কাশিবাঈয়ের জন্য পোশাক তৈরির জ্ঞান অর্জন করেন তিনি। ঘুরে দেখেন হায়দ্রাবাদের নিজামদের মহল, ইন্দোর, নাসিক, পুনের অনেক প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, ইলোরা আর অজন্তার গুহা আর মারাঠা পেশওয়াদের অনেক পুরোনো মহলে। একেক স্থান থেকে অঞ্জু তুলে আনেন একেক ধরনের মোটিফ, পোশাকের ধরন আর রং। তিনি জানান, এই একটি ছবির জন্য প্রায় ৩০০ পোশাক তৈরি করেছেন তিনি।
এই ছবির নেপথ্য তারকাদের মধ্যে চলে আসে বাজিরাও মাস্তানির সেট ডিজাইনারদের নামও—সুজিত শ্রিরাম ও সালোনি। বলা হচ্ছে, মোগল-ই-আজম-এর পর বাজিরাও মাস্তানি সবচেয়ে ব্যয়বহুল সেটে তৈরি হয়েছে। ৪৫ দিন সময় নিয়ে এই ছবির একটি সেট নির্মাণ করেছেন তাঁরা। ছবিতে আয়নামহল নামে একটি সেট রয়েছে। এটি তৈরিতে সুজিত ও সালোনি বিশেষ নকশা করা ২০ হাজার আয়না ব্যবহার করেছেন। ভারতের জয়পুর থেকে বিশেষ কারিগর দিয়ে আয়নাগুলো তাঁরা বানিয়ে আনেন। তাছাড়া কিছু কারিগর জয়পুর থেকে মুম্বাইয়ে এসে লম্বা সময় সেটেই কাজ করেছেন, একেবার রাজকীয় কায়দায় সাজিয়েছেন ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের সেট। এই বিশাল সেটে ছিল বড় বড় ১৩টি ঝাড়বাতি।
সঞ্জয়লীলা বানশালির এই বৃহৎ চেষ্টা, ছবির মূল পাত্রপাত্রীর পরিশ্রম আর নেপথ্য কারিগরদের সৃজনশীলতা বাজিরাও মাস্তানিকে করেছে বলিউডে এ বছরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ছবির একটি। তাই শাহরুখ-কাজলের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি দিলওয়ালের সঙ্গে একই দিনে মুক্তির খবরেও বিচলিত নন বানশালি, রণবীর, দীপিকা কিংবা প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের পরিশ্রম সুমিষ্ট ফল নিয়ে আসবে, হয়তো এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত। তাহলে কি বাজিরাও মাস্তানি এ যাত্রায় বাজি জিতে নেবেন, হারিয়ে দেবেন বলিউডে ফর্মুলা ছবিকে?
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু এবং বলিউড লাইফ অবলম্বনে