
শরতের এক ভেজা দুপুর। সংগীতশিল্পী পারভেজের গাড়িতে বসে কথা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে। পারভেজের ভাষায় এটি তাঁর ‘ভাঙাচুরা গাড়ি’। যেহেতু বাইরে বৃষ্টি, তাই গাড়ি থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। জানালেন, গান নিয়ে তিনি এখন দারুণ ব্যস্ত। বললেন, ‘কাজের জন্য ফ্রি আছি, কিন্তু অ-কাজের জন্য আমার হাতে কোনো সময় নেই।’
নিজের একটি অ্যালবাম তৈরি হয়ে আছে। এবার আরও কয়েকটি নতুন গান তৈরি করছেন। কিন্তু এগুলো শ্রোতারা হাতে পাবেন কবে? পারভেজ বললেন, ‘অ্যালবাম বের করার ইচ্ছে নেই। ভাবছি, অনলাইনে একটা একটা করে গান দেব। আই টিউনস, গুগল প্লে, স্পটিফাই, র্যাপসরি, আমাজনসহ সব কটি সাইট থেকে শ্রোতারা গানগুলো শুনতে পারবেন। পরে সময় সুযোগ আর অবস্থা বুঝে অ্যালবাম বের করব।’
এ পর্যন্ত দুটি অ্যালবাম বেরিয়েছে তাঁর। প্রথমটি পথ (২০০৯) আর দ্বিতীয়টি প্রহর (২০১২)।
পারভেজকে শ্রোতারা প্রথম চিনতে পারেন হৃদয় মিক্স অ্যালবাম থেকে। ওই অ্যালবামে পারভেজের গাওয়া ‘যাবি যদি’ আর ‘এ জীবন’ গান দুটি দারুণ জনপ্রিয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে শ্রোতাদের কাছে নিজেকে সুফি গানের শিল্পী হিসেবে তুলে ধরেন পারভেজ। বললেন, ‘গান নিয়ে আমি সব সময়ই নিরীক্ষা করছি। রাতারাতি তারকা হওয়ার কোনো ইচ্ছা কিংবা চেষ্টা আমার নেই। সুফি গান কিন্তু আমাদের এখানে তেমন পরিচিত নয়। শ্রোতারাও শুরুতে সেভাবে গানগুলো নিতে পারে না। আমি তাই নিজের যেকোনো গানেই সুফি সুরের একটু ছোঁয়া রাখছি। এভাবেই সুফি সুরের সঙ্গে শ্রোতাদের একটা মেলবন্ধন গড়ে তুলছি।’
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের বর্তমান চিত্রটা নিয়ে পারভেজের মূল্যায়ন, ‘আমাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব। এ কারণেই আমরা সফল হচ্ছি না। যেদিন সবাই এক হয়ে কাজ করতে পারব, সেদিনই আমরা সফল হব।’
ইদানীং চলচ্চিত্রেও গান করছেন পারভেজ। বললেন, ‘এখন অনেক ভালো ভালো ছবি তৈরি হচ্ছে। অভিজ্ঞ এবং মেধাসম্পন্ন তরুণেরা এখন এই মাধ্যমে কাজ করতে আসছেন। ভালো গান হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের চলচ্চিত্র সেই হারানো গৌরব ফিরে পাবে।’
জানালেন, এবার ঈদ উপলক্ষে কয়েকটি টিভির অনুষ্ঠানে গান করেছেন তিনি।
আবার পারভেজের গান নিয়ে কথা। জানালেন, তাঁর গানের শুরুটা হয়েছিল ছোটবেলায়, মায়ের কাছে। বললেন, ‘মা ভালো গান গাইতেন। আমরা সব ভাইবোন তাঁর কাছ থেকেই গান শিখেছি। তবে এখন আমি একাই গান করছি। এখনো নিয়ম করে গান শিখছি। নিয়মিত যাচ্ছি ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মাদ চৌধুরীর কাছে। কারণ, আমি শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখি। পাকা শিল্পী হতে হবে আমাকে।’