এই ভক্তকুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে সালমানকে নিয়ে আলাদা এক জগৎ। সেখানে তাঁদের কল্পনা, ভালোবাসা, ভালো লাগার কথাবার্তা বিনিময় করেন একে অপরের কাছে। উঠে আসে সালমান শাহর ব্যক্তিজীবন, সিনেমাজীবন থেকে শুরু করে নানা বিষয়।

‘ফ্যাশনে সালমান শাহকে অনুসরণ করেছেন বলিউডের তিন খান। দেশীয় চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহ ছিলেন কেতাদুরস্ত তারকা। তিনি সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া ফ্যাশনের সঙ্গে দর্শককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু বলিউডের তিন খানই নন, এই প্রজন্মের আরও অনেক দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্রশিল্পীই তাঁর স্টাইলের অনুকরণ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত...’
এই স্ট্যাটাসটি সালমান শাহকে নিয়ে তাঁর ভক্তদের তৈরি একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। আদতে স্ট্যাটাসটি খেলো ও অযৌক্তিক মনে হবে। কিন্তু এই অযৌক্তিক কথার মধ্য দিয়েও একটি যৌক্তিক কথা বেরিয়ে আসে। তা হলো, মৃত্যুর ২২ বছর পরেও ম্লান হয়ে যাননি সালমান শাহ। ভক্তরা মনে রেখেছেন তাঁকে। এখনো তিনি ভাস্বর ভক্তদের হৃদয়ে। প্রিয় নায়ককে নিয়ে তাঁদের বুনো উন্মাদনায়।
প্রিয় নায়ককে ভালোবাসার সূত্র ধরে এই ভক্তকুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে সালমানকে নিয়ে আলাদা এক জগৎ। সেখানে তাঁদের কল্পনা, ভালোবাসা, ভালো লাগার কথাবার্তা বিনিময় করেন একে অপরের কাছে। উঠে আসে সালমান শাহর ব্যক্তিজীবন, সিনেমাজীবন থেকে শুরু করে নানা বিষয়। এ কারণেই এখনো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, ইউটিউবে সালমান শাহকে ঘিরে থাকে নানা আয়োজন। আর এগুলো কেবলই প্রিয় নায়ককে ভালোবাসার সূত্রেই তৈরি।
ফেসবুকে ঢুঁ মারলে সালমান শাহর অ্যাকাউন্টই পাওয়া যাবে গোটা কয়েক। সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে সালমান শাহকে নিয়ে বিভিন্ন সময় পোস্ট করা হয়। তাঁর বিভিন্ন ভিউকার্ড পোস্ট করা হয়। দেওয়া হয় বিভিন্ন সময়ের সিনেমার পোস্টার। চলচ্চিত্রের আলোকচিত্র। আছে তাঁকে নিয়ে গোটা কয়েক পেজ। দীর্ঘদিন ধরেই এই সব পেজ নিজেদের উদ্যোগে চালিয়ে আসছেন ভক্তরা। সালমান শাহ অফিশিয়াল, সালমান শাহ ফ্যান ক্লাবসহ সালমান শাহকে নিয়ে নানা নামে চলছে এই সব পেজ। এই পেজগুলোর কোনোটির লাইক সংখ্যা লাখেরও বেশি। আছে কয়েকটি গ্রুপও। সালমান শাহর নামে করা এই সব গ্রুপের কোনো কোনোটির সদস্য ৫০ হাজারেরও ওপরে। এমনই একটি পেজ ও একটি গ্রুপ পরিচালনা করেন সালমান শাহর পাঁড় ভক্ত নাহিদ ইমন। প্রিয় নায়ককে নিয়ে এই উন্মাদনার পেছনে একটাই কারণ বললেন, সালমান শাহকে ভালোবাসা। তাঁর কথায় উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমান শাহকে নিয়ে কাজ করার শুরুর দিকের কথা। তিনি বলেন, ‘২০১০ সালের দিকে আমার মাথায় একটা আইডিয়া আসে। আমার কাছে সালমান শাহর ভিউকার্ড ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার। আমি যখন অনলাইনে ঢুকি, তখন সালমান শাহর তেমন একটা ছবি পাই না। তখন আমি ভাবি যে, যে করেই হোক সালমান শাহকে তুলে ধরতে হবে। তাঁর যে ফ্যাশন স্টাইল ছিল, তা সময়ের আগে উনি করে গেছেন। তাঁর অভিনয়, অভিব্যক্তিগুলোই এখন নায়ক-নায়িকারা অনুসরণ করেন।’
তখন তিনি সালমান শাহর ভিউকার্ডগুলো স্ক্যান করে আপলোড করা শুরু করেন। আর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হতে থাকে বিশ্বজুড়ে সালমান-ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক। তাঁরা জড়ো হতে থাকেন এই সব পেজ ও গ্রুপের সঙ্গে। এভাবেই কাজের শুরু। তারপর থেকেই এই ভক্তদের উদ্যোগে সালমান শাহকে নিয়ে তৈরি হয় নানা আয়োজন। কিন্তু এই ভক্ত দুঃখের সঙ্গে জানালেন, এফডিসিতে কোনো ফ্লোরের নাম এখন পর্যন্ত সালমান শাহর নামে হয়নি।
আরেক ভক্ত মাসুদ রানা। সালমান শাহকে নিয়ে নিজের আইডি দিয়ে পোস্ট দেন অহরহ। মৃত্যুর এত বছর পরেও অনলাইনে প্রিয় নায়ককে নিয়ে উন্মাদনার অনুপ্রেরণা কোথায় পান? এমন প্রশ্নে মাসুদ বলেন, ‘সালমানের ফ্যাশন, সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল; যা ভক্তদের ভালো লেগেছে। যার কারণে মানুষের ভেতরে তাঁর ভালোবাসা ঢুকে গেছে। এখন যেহেতু ভার্চ্যুয়াল যুগ। মানুষ সহজেই নিজের আবেগকে প্রকাশ করতে পারে। তাই তাঁকে নিয়ে ভক্তদের এই উন্মাদনা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান ২০১৩ সালে শুরু করেন সালমান শাহকে নিয়ে তাঁর পেজটি। প্রিয় নায়কের ভিউকার্ডগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগটি নিয়েছেন। এরপর আরও নানা ভক্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দিয়েছেন সালমানের নানা দুর্লভ ছবি। মাহবুব বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সালমান শাহ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে ধারণা দিতে চাই। তাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দেশে এমন একজন সুপারস্টার ছিল।’
ভক্তদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালমান শাহকে নিয়ে তাঁদের আবেগ-উচ্ছ্বাস টের পাই। মৃত্যুর এত বছর হয়ে গেলেও সালমান যেন প্রতিনিয়ত নতুন করেই আসন করে নিচ্ছেন ভক্তদের মনে। ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে মেলে ধরেছেন প্রিয় নায়ককে। আর এর পেছনে একটাই উদ্দেশ্য—প্রিয় নায়ককে ভালোবাসা।