দুই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে শ্রীমঙ্গলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন গায়ক, অভিনেতা, সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান এবং মডেল, অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম। দুজনের পরিচয় ও সম্পর্ক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন শেহতাজ।
নতুন জীবনে পদার্পণ করলেন, শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ।
প্রীতম হাসানের সঙ্গে আপনার পরিচয় কবে, কীভাবে?
কয়েক বছর আগেও তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, তবে সেভাবে কথা হয়নি। ২০১৭ সালে ‘জাদুকর’ মিউজিক ভিডিওতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমাদের পরিচয়। দুই দিন শুটিং হয়েছিল। প্রথম দিন শুটিংয়ের ১৫ দিন পর আরেক দিন শুটিং হয়। এর ভেতর আমাদের নিয়মিত কথা হতো। মূলত কাজ নিয়েই কথা হতো। একদিন কথায় কথায় আমি ওকে একটি অ্যানিমেশন সিরিজ দেখতে বলেছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই ও পুরো সিরিজটা শেষ করেছিল। আমার ধারণা, কাজের ফাঁকে ফাঁকে দেখলে সিরিজটা শেষ করতে বহুদিন লাগত। ও টানা দেখে শেষ করেছিল। শুটিংয়ের ফাঁকে আমাদের আলাপ হতো। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালো লাগার সম্পর্ক তৈরি হয়।
বিয়ের কথাবার্তা কবে থেকে শুরু হয়েছে?
শুটিংয়ের পরপরই ও আমাকে বিয়ের কথা বলেছিল। আমি ওকে খুব পছন্দ করতাম। তবু আমি আম্মুর অনুমতি ছাড়া কিছু করি না। তখন আম্মুকে বিয়ের কথা জানায়। আম্মু ওকে বলেছিল, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ও সেটা করে দেখিয়েছে, নিজের পাঁয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছরই আগস্টে ব্যাংককে আমাদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু সেটা পিছিয়ে যায়।
পেছাল কেন?
বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাইয়ের দিকে আব্বু মারা গেলেন। ফলে বিয়েটা পিছিয়েছি। এর মধ্যে আম্মুও খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন, লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আম্মু বললেন, ‘এই বছরই বিয়েটা করে ফেলো।’ আম্মুর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশেই বিয়েটা করলাম আমরা।
বিয়ের জন্য শ্রীমঙ্গল চূড়ান্ত করলেন কেন?
আমরা চেয়েছিলাম, আউটডোরে খুব সাধারণ একটি বিয়ে হবে, সেখানে সবাই আনন্দ করবেন। সেই বিষয় মাথায় রেখেই শ্রীমঙ্গলে বিয়ের আয়োজন করেছি। শুধু দুই পরিবারের সদস্য এবং খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সবাই খুব আনন্দ করেছেন।
প্রীতমের কোন গুণ আপনার ভালো লাগে?
ও খুবই সৎ ছেলে। আমাকে গুরুত্ব দেয়। একজন মানুষের এর চেয়ে বড় গুণ আর থাকতে পারে না।
সংসার নিয়ে আপনাদের এখন পরিকল্পনা কী?
আমি আম্মুর সঙ্গেই থাকব। আম্মু খুব অসুস্থ। আব্বু যেহেতু মারা গেছেন, আমি মাকে একা রাখতে চাচ্ছি না। মাঝেমধ্যে ওর বাসায় থাকব, কিছুদিন আম্মুর সঙ্গে থাকব। আমাদের আলাদা করে পরিকল্পনা নেই।
মধুচন্দ্রিমায় কোথায় যাচ্ছেন?
দুজনেরই হাতে বেশ কিছু কাজ রয়েছে। কাজ শেষ হলে গ্রীষ্মে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। আমরা জাপানে যেতে পারি। পরে হয়তো যাব, আবার গেলে হয়তো হুট করে চলে যাব।
হাতে কী কাজ আছে?
আপাতত কয়েকটি নাটক হাতে আছে, আরও কয়েকটা কাজ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।