
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) তদন্ত অনুযায়ী বলিউড নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মাদক। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে এনসিবি সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর বয়ান তাদের চার্জশিটে দাখিল করেছে। খবর অনুযায়ী, এই বয়ান হাতে লেখা। আর সুশান্তের পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন রিয়া। রিয়ার বক্তব্য, তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের আগে থেকেই সুশান্তের মাদকাসক্তি ছিল।
বেশ কিছুদিন আগে চার্জশিটে এ বক্তব্য দিলেও সম্প্রতি এটি ফাঁস হয়, ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সম্প্রতি নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে সুশান্তের মামলার।
রিয়া তাঁর এই বয়ানে বলেছেন, সুশান্ত তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা আর স্বামী সিদ্ধার্থের (সুশান্তের দুলাভাই) সঙ্গে গাঁজা সেবন করতেন। তাঁরাই সুশান্তের জন্য গাঁজা নিয়ে আসতেন।
তাঁর অভিযোগ, সুশান্তের পরিবারের সবাই ভালোভাবে জানতেন যে তিনি মাদকাসক্ত। বয়ানে বলা হয়েছে, সুশান্তের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে রিয়ার ভাই শৌভিক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুশান্ত রাজি হননি।
চার্জশিট বয়ানে একটা প্রেসক্রিপশনের কথা উল্লেখ করেছেন রিয়া, যা ২০২০ সালের ৮ জুন প্রিয়াঙ্কা তাঁর ভাই সুশান্তকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন। এই প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ছিল।
এই ওষুধগুলো এনডিপিএস (ন্যারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্টেনসেস) অনুযায়ী মাদক। সুশান্তকে এই ওষুধগুলো নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সুশান্তের সঙ্গে দেখা না করেই এই প্রেসক্রিপশন বানিয়েছিলেন দিল্লির এক হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ। রোগীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে এ ধরনের ওষুধ দেওয়া যায় না। রিয়া তাঁর বয়ানে বিশেষ করে এই বিষয়ে জোর দিয়েছেন যে প্রিয়াঙ্কার পাঠানো প্রেসক্রিপশনের এই ওষুধগুলো সেবনের কারণেই সুশান্তের মৃত্যু হতে পারে। ৮ থেকে ১২ জুন সুশান্তের অন্য বোন মিতু এই বলিউড তারকার সঙ্গে ছিলেন। রিয়া এই তথ্য মুম্বাই পুলিশকে দিয়েছিলেন।
বয়ানে রিয়া জানিয়েছেন, তিনি সুশান্তকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। রিয়ার কাছে প্রমাণ আছে। সুশান্ত হাসপাতালে ভর্তির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তাই এটা সম্ভব হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর ১২ হাজার পাতার চার্জশিটে রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর ভাই শৌভিকসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ আছে। এই চার্জশিটে ২০০ জনের বেশি সাক্ষীর বয়ান আছে। এনসিবি সুশান্ত সিং রাজপুতের রুমমেট সিদ্ধার্থ পিটানিকে বেশ কিছুদিন আগে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ৪ জুনের রিপোর্ট অনুযায়ী সিদ্ধার্থকে ১৪ দিনের জন্য এনসিবির হেফাজতে রাখা হবে।
১৪ জুন সুশান্তের বান্দ্রার বাসায় তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাসায় এ সময় চারজন লোক ছিলেন। সিদ্ধার্থ পিটানি (সুশান্তের রুমমেট), দীপেশ সাওন্ত (সুশান্তের বন্ধু), নীরজ সিং (হাউসকিপার) ও কেশব (রাঁধুনি)। নীরজ সুশান্তের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে শেষ কথোপকথনের কথা ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইকে জানিয়েছিলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, সুশান্ত প্রাতরাশ সেরেছিলেন। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা নাগাদ নীরজ দুপুরের খাবার কী হবে, জানতে সুশান্তর কাছে যান। তখন সুশান্ত ঘরের দরজা খোলেননি।
এক ঘণ্টা পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সিদ্ধার্থের সন্দেহ হয় যে কিছু একটা ঘটেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ সুশান্তের বোন মিতুকে ফোন করেন। আর চাবিওয়ালাকে ডেকে ঘরের তালা খোলান। সিদ্ধার্থই প্রথম সুশান্তকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছিলেন।