অভিযান নিয়ে আলোচনা–বিতর্ক, ক্ষমতা হাতে পর্দায় কী করেছিলেন এই মন্ত্রীরা

‘মিনিস্টার ফাটাকেস্ট’ সিনেমার পোস্টার
‘মিনিস্টার ফাটাকেস্ট’ সিনেমার পোস্টার

সিনেমায় নায়ক মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, দুর্নীতির প্রতিবাদ কিংবা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তবে কিছু সিনেমায় নায়কেরা শুধু প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি, নিজেরাই যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে। কেউ হয়েছেন মন্ত্রী, কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতার চেয়ারে বসে দুর্নীতি দমন থেকে শুরু করে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বাংলা, হিন্দি ও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় এমনই কিছু নায়কের গল্প নিয়ে এ আয়োজন। মন্ত্রী, কেউ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কী করেছিলেন।

১. মিনিস্টার ফাটাকেস্ট (২০০৭)
ফাটাকেষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ফাটাকেষ্ট একপর্যায়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর সিনেমার গল্পে শুরু হয়, শুরু হয় দুর্নীতি, অপরাধ ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ের অভিযান। মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নায়কের কঠোর অবস্থান সিনেমাটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

‘পাঠাকা’ সিনেমার পোস্টার

২. পাঠাকা (২০০৬)
সুরেশ গোপী অভিনীত সিনেমাটিতে জর্জ থারিয়ান রাজ্য সরকারের শিল্পমন্ত্রী হন। শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাঁর পথ কঠিন হয়ে ওঠে। মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়। রাজনীতি, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত ছবিটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘মুঠা মেস্ত্রি’ সিনেমার পোস্টার

৩. মুঠা মেস্ত্রি (১৯৯৩)
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে গল্পের নায়ক বোসের উত্থান। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা এবং ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সামাজিক অবস্থান থেকে রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর গল্পই ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ।

৪. লিডার (২০০৬)
বাবার মৃত্যুর পর অর্জুন প্রসাদ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কিন্তু ক্ষমতায় বসেই তিনি বুঝতে পারেন, রাজনীতির ভেতরে দুর্নীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব কতটা গভীর। পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে আপস না করে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন তিনি। আদর্শ, সততা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সংঘাত ছবিটির মূল বিষয়। মন্ত্রী নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নায়কের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের গল্প এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

মুদলভান সিনেমার পোস্টার

৫. মুদলভান (১৯৯৯)
পুরানকান্দি নামে এক টেলিভিশন সাংবাদিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তাঁর কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তিনি এক দিনের জন্য সেই পদে বসেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন। তাঁর কাজ জনসমর্থন তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক ক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, ছবিটি সেই প্রশ্ন সামনে আনে।