মুম্বাইয়ের বুকে যেন এক অন্য দুনিয়া। নেই শহুরে কোলাহল, ব্যস্ততা কিংবা ভিড়। আরব সাগরের পাড়ে নেভি নগরের ইউএস ক্লাবে সোমবার রাতে হয়ে গেল ‘বর্ডার ২’ ছবির সংগীত আসর। এ রাতে আলোয়-সুরে ঝলমলিয়ে ওঠে ভারতীয় নৌবাহিনীর এই বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রকৃতি, সুরের ঝংকার, তারকাদের উপস্থিতিতে রাতটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
মুম্বাইয়ের প্রতিরক্ষা এলাকায় অবস্থিত ইউএস ক্লাবে সোমবার রাতে মুক্তি পায় বর্ডার ছবির কালজয়ী গান ‘যাতে হুয়ে লমহোঁ’র নতুন সংস্করণ। ‘বর্ডার ২’ ছবিতে গানটি গেয়েছেন বিশাল মিশ্রা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘বর্ডার ২’–এর অভিনয়শিল্পী আহান শেঠি ও অন্যা সিং, অভিনেতা সুনীল শেঠি, সংগীতশিল্পী রূপকুমার রাঠোর, বিশাল মিশ্রা, প্রযোজক ভূষণ কুমার ও নিধি দত্ত।
বিশালের কণ্ঠে ‘যাতে হুয়ে লমহোঁ’ ও ‘সন্দেশে আতে হ্যায়’ গান দুটি পায় নতুন আবহ। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ১৯৯৭ সালের ‘বর্ডার’ ছবির অভিনেতা সুনীল শেঠি—যাঁর ছেলে আহান শেঠি অভিনয় করছেন ‘বর্ডার ২’–এ। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সুনীল। সজল নয়নে আর্দ্রকণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আহানের জন্য “বর্ডার ২”–এর মতো ছবিতে কাজ পাওয়া যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বেরও।’
ছেলের ক্যারিয়ারের শুরুর কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন সুনীল শেঠি। বলেন, ‘অনেকে ভাবেন, সুনীল শেঠির ছেলে মানেই কাজ সহজ। বাস্তবে তা নয়। “তড়প”–এর পর ওকে অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই “বর্ডার ২”–এর অংশ হওয়া ওর জন্য খুব বড় বিষয়।’ ১৯৯৭ সালের ‘বর্ডার’ ছবির স্মৃতি টেনে রূপকুমার রাঠোর বলেন, ‘২৭ বছর ধরে “বর্ডার”–এর আবেশ বয়ে নিয়ে চলেছি। আজ জেপি দত্ত সাহেবকে খুব মনে পড়ছে।’
ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন বলেন, ‘বর্ডার আমাদের জীবনের অংশ। সুনীল শেঠি নিজে “বর্ডার”–এ ছিলেন, আর “বর্ডার ২”–এ তাঁর ছেলে। এটা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে দায়িত্ব হস্তান্তরের মতো।’
অনুষ্ঠানে অন্যা সিং বলেন, ‘এই ছবির অংশ হওয়া আমার জন্য গর্বের। আমার দাদা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাই “বর্ডার ২”–এ কাজ করা আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।’
ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত ‘বর্ডার ২’ পরিচালনা করেছেন অনুরাগ সিং। ছবিতে অভিনয় করেছেন সানি দেওল, বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, আহান শেঠি, মোনা সিং, সোনম বাজওয়া, অন্যা সিং ও মেধা রানা। ২৩ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘বর্ডার ২’।