
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি হতে চলেছে নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত মহাকাব্যিক সিনেমা ‘রামায়ণ’। এই ছবির বিশাল আয়োজন, তারকাশিল্পীদের পারিশ্রমিক অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে। পৌরাণিক মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিতে রাম-সীতারূপে পর্দায় আসবেন রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবী। আর রাবণের ভূমিকায় দেখা যাবে কন্নড় সুপারস্টার যশকে। ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। সম্প্রতি তাঁর কারণেই এই ছবির এক মানবিক দিক আলোচনায় এসেছে—এ ছবির সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিবেক। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিবেক জানিয়েছেন, ‘রামায়ণ’ ছবির জন্য পাওয়া পারিশ্রমিক তিনি একটি মহৎ কাজে দান করে দিয়েছেন। বিবেক বলেন, ‘আমি প্রযোজক নমিত মালহোত্রাকে বলেছি, এই ছবির জন্য আমার এক পয়সাও চাই না। আমি এই টাকাটা ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় দিয়ে দিতে চাই।’
বিবেক এই সময় সিনেমার সেট থেকে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘‘‘রামায়ণ’’ নিয়ে এই দ্বন্দ্বটা সব সময় চলে, এটি পৌরাণিক নাকি ঐতিহাসিক। আমরা বিশ্বাস করি যে এটি ঐতিহাসিক এবং এর ওপর কাজ করার অভিজ্ঞতাটা দারুণ। আমি খুব খুশি এবং সবার সঙ্গে কাজ করে খুব মজা পেয়েছি। আমার এখনো কয়েক দিনের শুটিং বাকি আছে।’
‘রামায়ণ’ দুটি ভাগে নির্মিত হচ্ছে। প্রথম ভাগ ২০২৬ সালের দিওয়ালিতে এবং দ্বিতীয় ভাগ ২০২৭ সালের দিওয়ালিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমায় রামের ভূমিকায় রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী, রাবণের ভূমিকায় দেখা যাবে যশকে, আর বিভীষণের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিবেক ওবেরয়। রাকুল প্রীত সিংকে দেখা যাবে শূর্পণখার ভূমিকায়। এ ছাড়া লক্ষ্মণের ভূমিকায় রবি দুবে, হনুমানের ভূমিকায় সানি দেওল, কৈকেয়ীর ভূমিকায় লারা দত্ত এবং দশরথের ভূমিকায় অরুণ গোভিলের মতো শিল্পীরাও থাকবেন।
ক্যানসার নিয়ে জীবনের এক কষ্টের স্মৃতি আছে বিবেকের। কৈশোরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর প্রেমিকা। এক সাক্ষাৎকারে বিবেক জানিয়েছিলেন, প্রথম প্রেমিকার চলে যাওয়ার যন্ত্রণা আজও মেনে নিতে পারেননি তিনি। এক পডকাস্টে প্রথম প্রেম নিয়ে মুখ খুলেছিলেন বিবেক। তিনি জানিয়েছিলেন, স্কুলে পড়ার সময় তাঁর একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। বয়সের মাত্র এক বছর ফারাক ছিল তাঁদের।
বিবেক বলেছিলেন, ‘আমি যখন প্রেমে পড়েছিলাম সেই সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। অন্যদিকে, তার বয়স ছিল ১২। দু’জনে একসঙ্গে প্রচুর সময় কাটিয়েছি। অতটুকু বয়সেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলাম, ভবিষ্যৎ আমরা একসঙ্গে কাটাব।
বন্ধু ও প্রেমিকা—বিবেকের জীবনে দুই ভূমিকাতেই ছিল মেয়েটি। একদিকে পড়াশোনাও চলছিল, অন্যদিকে চুটিয়ে প্রেমও করছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎই একদিন বিবেক জানতে পারেন, তাঁর প্রেমিকা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তার অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন খবর শোনামাত্রই ভেঙে পড়েছিলেন বিবেক।
অভিনেতার কথায়, ‘আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ওর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, ও হাসপাতালে ভর্তি। আমি ছুটে যাই। আমাদের পাঁচ-ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। ওর অসুখের কথা জেনে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আমরা সবাই বহু চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দু’মাসের মধ্যে ওর মৃত্যু হয়।’
তথ্যসূত্র: পিঙ্কভিলা