
একসময় তেলেগু সিনেমায় নারী চরিত্র মানেই ছিল নায়কের প্রেমিকা, গান বা আবেগের উপকরণ। সেই ইন্ডাস্ট্রিতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজন নারী—সামান্থা রুথ প্রভু। তাঁর অভিনীত ও প্রযোজিত ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ শুধু বক্স অফিসে সফল হয়নি; বরং নারীনির্ভর বাণিজ্যিক ছবির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
দ্বিতীয় সপ্তাহেও বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে সামান্থা রুথ প্রভু অভিনীত সিনেমাটি। প্রথম সপ্তাহের ধারাবাহিক সাফল্যের পর দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটির আয় বাড়ছে। ইতিবাচক দর্শকপ্রতিক্রিয়া, পারিবারিক দর্শকদের আগ্রহ এবং মুখে মুখে প্রচারণার কারণে ছবিটি এখনো প্রেক্ষাগৃহে ভালো দর্শক টানছে।
মুক্তির অষ্টম দিনে ভারতে ছবিটি আনুমানিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি আয় করেছে। এর ফলে ভারতীয় বক্স অফিসে ছবিটির মোট আয় ৪০ কোটি রুপির গণ্ডি পেরিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি রুপি।
অষ্টম দিনে ছবিটির গড় দর্শক উপস্থিতি (অকুপেন্সি) ছিল ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতের শোগুলোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ছবিটি এখনো ভালো দর্শক পাচ্ছে।
নবম দিনেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এদিন ছবিটির গড় অকুপেন্সি বেড়ে হয়েছে ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার শোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল যথাক্রমে ২১.৯২ শতাংশ, ৪১ শতাংশ এবং ৪২.১৫ শতাংশ। রাতের শোর তথ্য তখনো প্রকাশিত হয়নি।
বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নবম দিনে ছবিটি তিন থেকে চার কোটি রুপি নেট আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভারতে ছবিটির মোট নেট আয় ৪৪ থেকে ৪৫ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
সামান্থার রেকর্ড
ছবিটির অন্যতম বড় অর্জন হলো, এটি সামান্থা রুথ প্রভুর একক নায়িকা হিসেবে অভিনীত ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হতে চলেছে। বহু তারকাসমৃদ্ধ অভিনয়শিল্পী ছাড়াই কেবল সামান্থার উপস্থিতিতেই ছবিটি দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে।
কী আছে সিনেমায়
ছবির পরিচালক নন্দিনী রেড্ডি ও সামান্থা শুরু থেকেই বলেছিলেন, তাঁরা নারীনির্ভর ছবির প্রচলিত ‘অসহায় নারীর’ ধাঁচ ভাঙতে চান।
তাঁদের লক্ষ্য ছিল, পুরুষ তারকাদের জন্য সংরক্ষিত বীরত্ব, অ্যাকশন ও বৃহৎ পরিসরের বিনোদনকে একজন নারীর গল্পে নিয়ে আসা।
ফলে ছবিতে সামান্থাকে দেখা যায় এক সাহসী, লড়াকু ও পরিবার রক্ষাকারী চরিত্রে। শাড়ি পরে তাঁর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে। ট্রেলারে ভাইরাল হওয়া বাস ফাইটের দৃশ্যটি হলে গিয়ে আরও বেশি করতালি পেয়েছে।
ছবিটি নারী ক্ষমতায়নের ভাষণ দেয় না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিনোদন হিসেবে কাজ করে। আর সেখানেই এর সাফল্যের রহস্য।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে