অম্রুতা খানবিলকর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
অম্রুতা খানবিলকর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ছোট চরিত্রের অডিশন, মিলেছে বড় সুযোগ

নেটফ্লিক্সের ‘তস্করি: দ্য স্মাগলারস ওয়েব’-এ কাস্টমস অফিসার মিতালি কামাথ চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় অম্রুতা খানবিলকর। নীরজ পান্ডে নির্মিত অ্যাকশন থ্রিলার সিরিজটিতে ইমরান হাশমির সঙ্গে সমানতালে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্যের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সিরিজ ও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

আলাপের শুরুতে অম্রুতা জানালেন, এই সিরিজে তাঁর যুক্ত হওয়াটা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তাঁর ভাষায়, ‘প্রথমে খুব ছোট একটা চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে গিয়েছিলাম। কাস্টিং ডিরেক্টর বলেছিলেন, ছয় দিনের কাজ। আমি নীরজ স্যারের সঙ্গে কাজ করতে চাইছিলাম বলেই শুরুতে ছোট চরিত্রে রাজি হয়েছিলাম।’

পরে নির্মাতারা তাঁকেই মিতালি কামাথ চরিত্রের জন্য ভাবেন। ‘রাঘব স্যার আর নীরজ স্যার আমাকে মিতালি কামাথের চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলেন। তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, আমি অ্যাকশন করতে পারব কি না। আমি বলেছিলাম, আমি ড্যান্সার, তাই সব রকম কোরিওগ্রাফি বুঝি। তারপর ঠিকঠাক অ্যাকশন অডিশন দিই আর তাঁদের সেটা পছন্দ হয়।’

অম্রুতা খানবিলকর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অ্যাকশন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ

এত অ্যাকশনভিত্তিক চরিত্র আগে করেননি অম্রুতা। তিনি বলেন, ‘নীরজ পান্ডের প্রকল্পে নারী চরিত্ররা যখন অ্যাকশন করে, সেটা খুব বাস্তবিক হয়। সেই বাস্তবধর্মী অ্যাকশনটাই আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল। দ্বিতীয় দিনেই সবচেয়ে কঠিন দৃশ্যটা করতে হয়েছিল, কিন্তু সেটা আমি খুব উপভোগ করেছি।’

অম্রুতা খানবিলকর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শুটিং চলাকালে চোট পাওয়ার ঘটনাও আছে। অম্রুতার কথায়, ‘একদিন আমার হাত পুরো ফুলে গিয়েছিল, একেবারে বেলুনের মতো। কিন্তু লোকেশন আর পাওয়া যাবে না বলে সেই হাতেই বক্সিং গ্লাভস পরে ১৫ মিনিটের মধ্যে শট শেষ করতে হয়েছিল।’

নিজেকে অম্রুতা ‘ওয়ান অব দ্য বয়েজ’ বলেও উল্লেখ করেন। ‘চরিত্রটি করতে গিয়ে আমি ছেলেদের দলের একজন হয়ে গিয়েছিলাম। শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপ গিয়েছিল, কিন্তু সেই চাপ ভালো লাগছিল,’ বললেন তিনি।

ইমরানের সঙ্গে কাজ ও টার্নিং পয়েন্ট

সহশিল্পী ইমরান হাশমির প্রশংসা করলেন অভিনেত্রী। ‘ইমরান খুব শান্ত আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। নিজের সাফল্য নিয়ে ও একেবারেই বিচলিত নয়। এত হিট ছবি আর গান থাকা সত্ত্বেও ও খুব বিনয়ী। সেটে আসত, নিজের কাজ করত আর চলে যেত। ইমরান, নন্দীশ আর আমি—এই তিনজনের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল,’ বললেন অম্রুতা।

ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো কাজ হিসেবে আজও ‘রাজি’র কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন তিনি। ‘নিশ্চয়ই “রাজি” আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তখন আমরা কেউই জানতাম না ছবিটা এত বড় সাফল্য পাবে। আলিয়া খুব সাহসী একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমরা সবাই শুধু সততার সঙ্গে কাজটা করতে চেয়েছিলাম আর সেটাই পর্দায় পৌঁছেছিল,’ বললেন অম্রুতা।

নতুন বছরে নতুন প্রত্যাশা

কোভিড–পরবর্তী সময়টাকে জীবনের এক কঠিন অধ্যায় বলেই মনে করেন অম্রুতা, ‘সত্যিই অসহায় বোধ করছিলাম। ঠিক কী হচ্ছে, বুঝতে পারছিলাম না।’ একপর্যায়ে মানসিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন বলেও জানান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। ধীরে ধীরে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরতে পেরে এখন স্বস্তি অনুভব করছেন। ‘এখন ভালো লাগছে যে জিনিসগুলো আবার সঠিক জায়গায় আসছে। হংসল মেহতার সঙ্গে কাজ করেছি, নীরজ স্যারের সিরিজ এল, সামনে আরও কাজ আছে। ধীরে ধীরে কাজে ফিরতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি,’ বললেন অম্রুতা।

২০২৬ সাল নিয়ে অম্রুতার প্রত্যাশা খুব কম, ‘আমি শুধু চাই, এই কাজগুলো থেকে আরও ভালো কাজ আসুক। মানুষ আমাকে নানা ধরনের চরিত্রে দেখুক, এটুকুই আশা।’

অম্রুতা খানবিলকর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে