সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন বলিউড অভিনেতা সতেন্দ্র সোনি। কোলাজ
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন বলিউড অভিনেতা সতেন্দ্র সোনি। কোলাজ

টাকা চাইতেই খুনের হুমকি! কেঁদে ফেললেন ‘লাপাতা লেডিজ’ অভিনেতা

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন বলিউড অভিনেতা সতেন্দ্র সোনি। সেখানে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রদেশের মাইহারে ‘পেড় পালকি’ নামের একটি ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। ছবিটির পরিচালক ও প্রযোজক পুষ্পেন্দ্র সিং।

সতেন্দ্রর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে আগাম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হলেও বাকি পারিশ্রমিক শুটিং চলাকালেই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। তাঁর মোট ১০ দিনের কাজের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সাত-আট দিন শুটিং শেষ হওয়ার পরও বাকি অর্থ না পেয়ে তিনি পারিশ্রমিকের কথা জানতে চান।

এরপরই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় বলে দাবি করেন অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, টাকা চাইতেই তাঁকে হোটেল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। শুধু তা–ই নয়, তিনি আরও দাবি করেন যে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ভিডিওতে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সতেন্দ্র বলেন, তিনি জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি।

সতেন্দ্র সোনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, তাঁকে বলা হয়েছিল মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় তাঁকে মেরে ফেলা হবে—এমন হুমকির অভিযোগও তিনি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, পরিচালকের স্ত্রী এবং ছবির অভিনেত্রী প্রগতি চৌহানও তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং গালাগাল করেন।

অভিনেতার দাবি, তিনি এতটাই ভয় পেয়ে যান যে দ্রুত হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
সতেন্দ্রর দাবি অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন অভিনেতা শ্রীধর দুবে ও পঙ্কজ শর্মা। তাঁরাও হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। পরে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে সতেন্দ্র জানান, তাঁরা নিরাপদে মুম্বাই ফিরে এসেছেন। এ সময় তিনি মাইহার পুলিশ, অভিনেতা আশুতোষ রানা এবং আরও কয়েকজনের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই পুরো ঘটনা তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
অভিনেতার অভিযোগ নিয়ে নির্মাতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সতেন্দ্র সোনি। ফেসবুক থেকে

সতেন্দ্র সোনি দর্শকের কাছে পরিচিত নাম। ‘লাপাতা লেডিজ’-এ তাঁর ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পাশাপাশি জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এও অভিনয় করেছেন তিনি। এই ধরনের শিল্পীরাই আসলে ভারতীয় সিনেমা ও ওটিটি জগতের মেরুদণ্ড। প্রধান চরিত্রের বাইরে গল্পকে বাস্তব করে তোলেন তাঁরাই। অথচ তাঁদের কর্মপরিবেশ নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়।

এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই চরিত্রাভিনেতাদের সমস্যার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে অভিনেতা জাতিন নেগি অভিযোগ করেন, চরিত্রশিল্পীদের পারিশ্রমিক অনেক সময় মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। অনেকেই দুই-তিন মাস অপেক্ষা করার পরও পুরো টাকা পান না। তাঁর দাবি, প্রধান অভিনেতাদের তুলনায় চরিত্রশিল্পীদের পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। অনেক সময় দিনে মাত্র পাঁচ হাজার রুপির বিনিময়ে কাজ করতে হয়। আবার ছবি ব্যবসাসফল না হলে প্রথম ধাক্কা সামলাতে হয় এই শিল্পীদেরই। অভিনেত্রী সুনীতা রাজওয়ারও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে পারিশ্রমিক পুরোপুরি বাজারমূল্যের ওপর নির্ভর করে। অনেক পরিচালকই নতুন বা চরিত্রশিল্পীদের কম টাকায় কিংবা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানোর চেষ্টা করেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে