
শত্রুঘ্ন সিনহা ১৯৮০ সালে পুনম সিনহাকে বিয়ে করেন। তবে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৬৫ সালে, পুনম তখন স্কুলপড়ুয়া। ভারতী এস প্রধানের লেখা শত্রুঘ্নের জীবনী ‘অ্যানিথিং বাট খামোশ’-এ ঘটনাসহ উঠে এসেছে অভিনেতার জীবনের নানা ঘটনা। বই সূত্রে জানা গেছে, পুনমকে বিয়ের দুই দিন আগেও অন্য প্রেমিকার সঙ্গে লন্ডনে ঘনিষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন অভিনেতা।
শত্রুঘ্ন-পুনম সম্পর্ক
১৯৬৮ সালে পুনম ‘মিস ইয়ং ইন্ডিয়া’ জেতেন, তখন শত্রুঘ্নর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়ে। তবে শত্রুঘ্ন তখনো সিনেমায় আসেননি। সেই সময় সুন্দরী প্রতিযোগিতা জিতলে চলচ্চিত্রে সুযোগ দেওয়া হতো। ভাগ্যক্রমে পুনম চিত্রজগতে প্রবেশ করেন শত্রুঘ্নর আগে। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো ছিল কিন্তু তখনো প্রেম হয়নি। ১৯৭১ সালে ‘ধরতি কি গড ম্যায়’ সিনেমায় কাজ করার সময় তাঁদের বন্ধন গভীর হয়।
শত্রুঘ্নর ক্যারিয়ার যখন এগোতে থাকে, অনেক নারীর সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিনেতা নিজেই স্বীকার করেছেন, এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ছিল। পুনমও এটি জানতেন। পরবর্তীকালে শত্রুঘ্ন খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন, পুনমের সঙ্গে প্রেম করার সময়ও অন্য নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। একটা সময় পুনমও সম্ভাবনাময় বিনোদন ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে যান।
শত্রুঘ্নর জীবনীতে ভারতী এস প্রধান লিখেছেন, ‘শত্রুঘ্ন পুনমকে বলেছিলেন, তাঁর মতো করে বাঁচতে দিতে। পুনমও আপত্তি করেননি, বরং তিনি সিনেমা থেকেই সরে যান। কয়েক বছর শত্রুঘ্নর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও কমে যায়।’
দৃশ্যপটে হাজির রিনা রায়
শত্রুঘ্নর সম্পর্ক গড়ে ওঠে ‘কালীচরণ’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী রিনা রায়ের সঙ্গে। রিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সময় পুনমও শত্রুঘ্নর জীবনে আবার ফিরে আসেন। শত্রুঘ্ন বলেন, ‘আমার সমস্যা ছিল কাকে বিয়ে করব, কাকে করব না।’
এ সময়ে এগিয়ে আসেন শত্রুঘ্নর মা। তিনি ঠিক করেন পুনমের সঙ্গেই ছেলের বিয়ে দেবেন, সেটা রিনাকেও জানিয়ে দেন। তবুও বিয়ের দুই দিন আগে লন্ডনে রিনার সঙ্গে একটি স্টেজ শোতে হাজির হন শত্রুঘ্ন। শোনা যায়, পরে রিনাই বুঝিয়ে শত্রুঘ্নকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
শত্রুঘ্ন পরে স্টারডাস্ট ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি পিছিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বিয়ে বোম্বেতে, আমি লন্ডনে। শেষ ফ্লাইটে যাত্রা করেই সময়মতো বিয়েতে পৌঁছালাম। পুনম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, মনে করেছিলেন, আমি পিছিয়ে যাচ্ছি।’
বিয়ের সময় পুনম প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তিনি জানতেন, শত্রুঘ্ন রিনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। শত্রুঘ্ন স্বীকার করেন, ‘আমি পুনমকে বিয়ে করার সময়ও রিনাকে ভুলতে পারিনি। তখন আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।’ বিয়ের পরও রিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চলতে থাকে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমি কোনো পক্ষকে প্রতারণা করতে চাইনি, তবে একটি আবেগপ্রবণ সম্পর্ক থেকে সরে আসতে সময় লাগে।’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন স্বীকার করেন, তিনি দুই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য অনুতপ্ত। তিনি বলেন, ‘ভালো মানুষ দোষী বোধ করে, আর আমি তো ছোট শহর পাটনা থেকে এসেছি। যখন একসঙ্গে দুটি বা তিনটি সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। তবে এতে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ পড়ে। নিজেকে এখন অপরাধী মনে হয়।’
৭ জানুয়ারি রিনা রায়ের জন্মদিনে শত্রুঘ্ন তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের কয়েকটি সিনেমার ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একজন খুব প্রিয় বন্ধু, সেরা অভিনেত্রীদের একজন, চিরকাল মোহনীয় তারকা, অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী রিনা রায়ের জন্মদিনে ভালোবাসা। তোমার জীবন সব সময় ভরে উঠুক আশীর্বাদে।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে