ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

আলোকচিত্রীদের আচরণেই অস্বস্তি, পোশাক দায়ী নয়: ঐশ্বরিয়া

পোশাক নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ভারতের দক্ষিণি সিনেমার অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। গত মে মাসে একটি হীরার গয়নার প্রদর্শনীতে পরা পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, অনুষ্ঠানের জন্য তাঁর পোশাকটি উপযুক্ত ছিল কি না।

সম্প্রতি রাজিনি হরিদাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, পোশাকের কারণে নয়, অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রীদের আচরণে তিনি অস্বস্তি বোধ করেছিলেন। তাঁর দাবি, আলোকচিত্রীরা তাঁর মুখের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর কোণ থেকে ছবি তুলছিলেন।

ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘তারা আমার মুখের দিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন না। আমি অস্বস্তি বোধ করেছিলাম। অস্বস্তি বোধ করলে শরীরী ভাষাতেও তার প্রভাব পড়ে। আমার মনে হয়েছিল, আমার ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অস্বস্তির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকেই বিষয়টির কারণ হিসেবে তাঁর পোশাককে দায়ী করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, পোশাকটি যদি অস্বস্তিকরই হয়, তাহলে তিনি সেটি পরেছিলেন কেন।

এসব মন্তব্যের জবাবে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘সংস্কৃতি কি শুধু নারীর ক্লিভেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ? আমরা যেভাবে আচরণ করি, সেখানেও তো সংস্কৃতি আছে।’

অভিনেত্রীর ভাষ্য, নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা বা তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলার বিষয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। অথচ একজন নারী কী পরছেন, তাঁর গলার অংশ কতটা ঢাকা—এসব নিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের সমালোচনা।

ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

শুরুতে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে হওয়া ট্রলকে গুরুত্ব দেননি ঐশ্বরিয়া। প্রথম ২৪ ঘণ্টা এসব নিয়ে হেসেছেন তিনি। কিন্তু পরে আলোচনা বাড়তে থাকলে বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে।

ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘প্রথম ২৪ ঘণ্টা আমি বিষয়টি নিয়ে হেসেছিলাম। কিন্তু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে পরিমাণ আলোচনা তৈরি হলো, তাতে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমরা কেন আমাদের জিডিপি নিয়ে আলোচনা করতে পারি না? কত বৃদ্ধ মা–বাবাকে পরিত্যক্ত হতে হচ্ছে, তা নিয়ে কেন কথা বলতে পারি না? আমার ক্লিভেজ নিয়ে এত তীব্র আলোচনা কেন হতে হবে?’

এর কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। একটি গয়না প্রতিষ্ঠানের রক্ষাবন্ধনের বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়ে সমালোচনা হয়। পরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তখন কৃতি বলেছিলেন, একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান শুধু তাঁর পোশাক দিয়ে মাপা উচিত নয়।

ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

চিকিৎসা পেশা ছেড়ে অভিনয়ে আসেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ২০১৭ সালে মালয়ালম সিনেমা ‘নজান্ডুকালুডে নাট্টিল ওরিদাভেলা’ দিয়ে তাঁর অভিনয়ে অভিষেক। ‘মায়ানাধি’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি।

এরপর ‘ভারাথান’, ‘আম্মু’, ‘কুমারী’, ‘গাটা কুস্তি’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মণি রত্নমের ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজের সিনেমার মাধ্যমেও তামিল দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি।

ঐশ্বরিয়ার সর্বশেষ সিনেমা ‘আশা’। উর্বশী ও জোজু জর্জ অভিনীত সিনেমাটি ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে