‘লগান’ সিনেমায় আমির খান। আইএমডিবি
‘লগান’ সিনেমায় আমির খান। আইএমডিবি

গ্রামে পানি নেই, প্রতিদিন শেভ করছে কীভাবে? ২৫ বছর পর আমিরের স্মৃতিচারণা

আমির খান ও আশুতোষ গোয়ারিকর—দুজনের সৃজনশীল মতভেদই যেন নতুন করে আলোচনায় এনে দিল কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘লগান’কে। মুক্তির ২৫ বছর পরও ছবিটির নানা অজানা গল্প ভক্তদের আগ্রহ জাগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ছবিটির স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আমির খান তুলে ধরেন এক মজার কিন্তু যুক্তিসংগত বিতর্কের কথা। তাঁর মতে, খরাপীড়িত এক গ্রামে যেখানে পানীয় জলেরই অভাব, সেখানে তাঁর চরিত্র ভুবন প্রতিদিন পরিষ্কারভাবে দাড়ি কামাচ্ছে—এটা বাস্তবতার সঙ্গে ঠিক মেলে না। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘গ্রামে যখন পানি নেই, তখন সে প্রতিদিন শেভ করছে কীভাবে? এটা তো অদ্ভুত!’

অন্যদিকে পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন ভিন্নভাবে। তাঁর মতে, ছবিটি ছিল পরীক্ষামূলক এবং দর্শকের কাছে চরিত্রকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ভুবনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট লুকে দেখানো জরুরি ছিল। বিশেষ করে আমির খানের মতো তারকাকে তিনি একটি আলাদা, নায়কোচিত উপস্থিতিতে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

‘লগান’ সিনেমায় আমির খান। আইএমডিবি

এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত পরিচালকের পক্ষেই গিয়েছিল। আমির খান নিজেও স্বীকার করেন, শেষমেশ আশুতোষের সিদ্ধান্তই বহাল ছিল। তবে আজও তিনি মনে করেন, চরিত্রটির বাস্তবতার দিকটি অন্যভাবে ভাবা যেত।
শুধু এটাই নয়, আশুতোষ গোয়ারিকর যখন ‘লগান’ ছবির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, শুরুতেই না বলে দেন আমির খান। ক্রিকেট আর ইতিহাস—এ দুই নিয়ে বলিউডে ছবি করা মানে বক্স অফিসে নিশ্চিত ফ্লপ। কিন্তু আশুতোষের চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত ছবির পুরো গল্প শোনেন আমির। মোট ছয়বার শোনার পরেও রাজি হননি, শেষে সাতবারে এসে ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হন তিনি। শুধু অভিনয় করতেই রাজি হননি, আমির প্রথমবারের মতো প্রযোজনাও করেছিলেন। তারপর? বাকিটা ইতিহাস!

শুধু এই বিষয় নয়, ‘লগান’ তৈরির সময় আরও অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। শুরুতে ছবিটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা, যা পরে কেটে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টায় নামানো হয়। এ ছাড়া ক্রিকেটভিত্তিক গল্প হওয়ায় অনেকেই এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখেছিলেন। তবু সব বাধা পেরিয়ে ছবিটি মুক্তির পর দারুণ সাফল্য পায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়—এমনকি অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পায়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে