প্রাজক্তা কোলি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রাজক্তা কোলি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আবারও আলোচনায় প্রাজক্তা

অভিনয়ের আগে ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন প্রাজক্তা কোলি। অভিনয়জগতে তাঁকে প্রথম বড় পরিচিতি দেয় নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘মিসম্যাচড’। এরপর যুগ যুগ জিও ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সেরই আরেকটি সিরিজ ‘সিঙ্গেল পাপা’ দিয়ে আবারও আলোচনায় এই অভিনেত্রী।

‘সিঙ্গেল পাপা’তে কাজ করার সিদ্ধান্ত চিত্রনাট্য পড়ার আগেই নিয়েছিলেন প্রাজক্তা। জানালেন, ‘নির্মাতাদের ওপর আস্থা ছিল। এটা ছিল একেবারে অন্তরের ডাক। নেটফ্লিক্স আর শশাঙ্ক খইতান একসঙ্গে কাজ করছেন—এই তথ্য আমার জন্য যথেষ্ট ছিল।’ তিনি জানান, নভেম্বরে অডিশন দিয়েছিলেন। কয়েক মাস পর জানতে পারেন, সিরিজে কুনাল খেমু, নেহা ধুপিয়া, মনোজ পাহওয়া ও আয়েশা রাজা মিশ্রাও আছেন।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে হাসতে হাসতে প্রাজক্তা বলেন, ‘সেটের সময়টা খুব উপভোগ করেছি। তবে রণথম্ভোরে মে মাসে ৪৮ ডিগ্রি গরমে শুটিং ছিল ভীষণ কষ্টের। তার ওপর লেহেঙ্গা পরতে হয়েছিল। একসময় মনে হচ্ছিল, শুটিং শেষ হলে লেহেঙ্গাটা পুড়িয়ে ওটার চারপাশে নাচব।’

গত বছর দীর্ঘদিনের প্রেমিক বৃশাঙ্ক খানালকে বিয়ে করেছেন প্রাজক্তা। বিয়ের পর জীবনের পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলেন, ‘বৃশাঙ্ক আমার জীবনটা অনেক সহজ করে দিয়েছে। শুধু মা–বাবা সঙ্গে থাকেন না—বিষয়টা মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়। এটুকু বাদ দিলে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।’

প্রাজক্তা কোলি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অভিনয়ের এই সময়টাকে দারুণ সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন তিনি। প্রাজক্তার মতে, ‘শিল্পীদের জন্য সময়টা এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাধ্যম আর ভাষার সীমা ধীরে ধীরে কমে আসছে। সেই পরিবর্তনকে আরও দ্রুত করছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।’

প্রাজক্তা জানান, অভিনয় এখন তাঁর সৃজনশীল যাত্রার কেন্দ্রবিন্দু। ইউটিউব দিয়ে শুরু হলেও তিনি বই লিখেছেন, চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ওয়েব সিরিজ ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে তাঁর প্রথম মারাঠি ছবি ‘ক্রান্তিজ্যোতি বিদ্যালয়’।

এটিকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বড় মাইলস্টোন হিসেবে দেখছেন। ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন শচীন খেড়েকর, অমেয় ওয়াঘ, সিদ্ধার্থ চন্দেকর ও ক্ষীতি জগ। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাজক্তা বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় মারাঠি নাটকে অভিনয় শুরু করি। মহারাষ্ট্রসহ দেশের নানা জায়গায় প্রায় ১৫০টি শো করেছি। তখন থেকেই মারাঠি সিনেমায় কাজ করার স্বপ্ন। নিজের মাতৃভাষায় কাজ করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’

বিভিন্ন মাধ্যমে পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাকেই নিজের সময়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন প্রাজক্তা কোলি।

প্রাজক্তা কোলি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে