নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া কমেডি-ড্রামা ওয়েব সিরিজ সিঙ্গেল পাপা-তে চিকিৎসক শ্রেয়া আগারওয়ালের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী আইশা আহমেদ। মুম্বাইয়ের একটি প্রযোজনা সংস্থার দপ্তরে মুখোমুখি আড্ডায় আইশা বলেন, ‘আসলে আমার খুব ভালো লাগছে। আমার সব বন্ধু, তাদের মা–বাবা—সবাই সিরিজটি দেখছেন। সবার কাছ থেকেই দারুণ প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। তাই আমি খুবই খুশি।’
আইশার মা রুখসর রেহমানও অভিনয়জগতে আছেন। মেয়েকে সিরিজে দেখে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী? আইশা বলেন, ‘আমি ছোট না বড় চরিত্রে অভিনয় করছি, মায়ের কাছে এটা কোনো ব্যাপার নয়। উনি আমাকে স্ক্রিনে দেখতে পারলেই খুশি হন। এই শো দেখে মা বলেছিলেন, আমাকে বেশ বড় আর পরিপক্ব দেখাচ্ছে। আমাকে একটু ভিন্নভাবে দেখে উনি সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলেন।’
সিঙ্গেল পাপার চরিত্রটার সঙ্গে সহজেই নিজের মিল খুঁজে পেয়েছেন আইশা। বলেন, ‘শ্রেয়ার সঙ্গে নিজেকে ভালোভাবেই রিলেট করতে পেরেছি। আমার বেড়ে ওঠার সঙ্গে ওর মিল আছে। শ্রেয়া খুব খোলামেলা মনের মানুষ। কাউকে জাজ করে না, লেবেল দেয় না। তাই চরিত্রটার সঙ্গে মন থেকে যুক্ত হতে পেরেছিলাম।’ শ্রেয়ার একটি দিক তাঁকে আলাদা করে টেনেছে, ‘আমার মনে হয়, শ্রেয়া আমার চেয়ে অনেক বেশি গোছানো। সিরিজে একটা সংলাপ আছে, যেখানে সে বলে বৃত্তাকার কিছু তার পছন্দ নয়, সে সরলরেখা বোঝে। আমিও ভণ্ডামি পছন্দ করি না। জীবনে ওর মতো আরও সুসংগঠিত হতে চাই।’
সহশিল্পীদের নিয়েও কথা বলেন আইশা। ‘কুনাল খেমু, নেহা ধুপিয়া, মনোজ পাহওয়ার মতো অভিজ্ঞ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছি। শুটিংয়ের প্রতিটি দিনের সুন্দর স্মৃতি আছে। সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন।’
মা বলেছিলেন
অভিনয়ে আসার আগে মায়ের দেওয়া পরামর্শ আজও মনে রাখেন আইশা, ‘মা বলেছিলেন, আমি যা করছি, তাতে তিনি গর্বিত। কিন্তু এই পথ সহজ নয়। আমি তখন ১৬। মা বলেছিলেন, শুরুতে ভালো লাগবে, কিন্তু পরে কঠিন মনে হবে। কয়েক বছর পর বুঝেছি, মা ঠিকই বলেছিলেন।’
অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিক প্রসঙ্গে আইশা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সংগ্রাম হলো প্রতিদিন নিজেকে টিকিয়ে রাখা। চটজলদি কাজ পাওয়া যায় না। আপনি খুশি না দুঃখী, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই, অডিশন দিতেই হবে। প্রত্যাখ্যানের কষ্ট নিয়েই পরের অডিশনে যেতে হয়। এখন মনে করি, যেটা পাইনি, সেটা আমার কপালে ছিল না।’
প্রত্যাখ্যান সামলানোটা যে সহজ নয়, সেটিও খোলামেলা স্বীকার করলেন আইশা, ‘প্রত্যাখ্যান আমি ভালোভাবে নিতে পারি না। খুবই কষ্ট পাই। তখন আমার বন্ধু আর মা আমাকে স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করেন। তবে আমার আয় শুধু অভিনয়নির্ভর নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্র্যান্ড প্রচার করি, বিজ্ঞাপনেও কাজ করি। তাই আর্থিকভাবে আমি ঠিক আছি।’
স্বজনপ্রীতির সুবিধা পেয়েছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে আইশা বলেন, ‘আমার মা এখনো অডিশন দিয়ে চলেছেন। তাই মনে হয় না স্বজনপ্রীতি আমাকে কোনোভাবে সাহায্য করেছে। তবে ওনার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে।’
ওটিটির যুগে প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আইশার মন্তব্য, ‘আমি একদমই প্রতিযোগী নই। কেউ যদি এসে বলে, “চলো এই চরিত্রের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি”, আমি বলব, তুমিই করো। আমার যা আছে, আমি তাতেই খুশি।’
কাজের বাইরে আইশার পছন্দ সহজ জীবন, ‘আমি কিছুই করতে পছন্দ করি না। সারা দিন সোফায় শুয়ে থাকতে পারি। ফোন স্ক্রল করি, বই পড়ি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে খুব ভালো লাগে।’
কাজের বাইরের এই সাধারণ, অলস সময়ই তাঁকে স্বস্তি দেয়। তাই আজও নিজের সাফল্য, স্বপ্ন আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে চাপ না নিয়ে এগিয়ে যেতে চান ধীরে ধীরে। আইশার ভাষায়, ‘আমি যা করছি, তাতেই খুশি থাকতে শিখেছি। প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার কাছে সবচেয়ে বড় জয়।’