বলিউডে সৌন্দর্য আর অভিনয়—দুটোরই আলাদা ভাষা ছিল তাঁর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও বদলায়নি নিজের অবস্থান নিয়ে তাঁর স্পষ্টতা। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি—দুই অঙ্গনেই নিজস্ব উপস্থিতি গড়ে তোলা জয়া বচ্চন বরাবরই পরিচিত অকপট বক্তব্যের জন্য। বয়স, সৌন্দর্য কিংবা জনপ্রিয়তা—কোনো বিষয়েই তিনি কখনো আপস করেননি। আজও তাই আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান।
বলিউডে বয়স ধরে রাখার প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। প্লাস্টিক সার্জারি, বোটক্স কিংবা নানা কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় নিজেকে তরুণ দেখানোর প্রবণতা এই ইন্ডাস্ট্রিতে বহুদিনের। তবে জয়া বচ্চন সেই স্রোতের বাইরে। সম্প্রতি বার্ধক্য, সৌন্দর্য ও কৃত্রিম পরিবর্তন নিয়ে নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া বচ্চন বলেন, বয়সের ছাপ তিনি লুকাতে চান না। তাঁর কথায়, ‘আমার প্রতিটা বলিরেখা আর ধূসর চুল নিয়ে আমি গর্বিত। এগুলো আমার জীবনের গল্প।’ বোটক্স বা সার্জারি নিয়ে তাঁর অবস্থান আরও পরিষ্কার, ‘আমি কখনো আমার মুখে কৃত্রিম কিছু ব্যবহার করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।’
এই সাক্ষাৎকারে নিজের সন্তানদের নিয়েও আবেগ প্রকাশ করেন জয়া। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে এমন কোনো দিন যায় না, যেদিন আমি অভিষেক আর শ্বেতাকে দেখে গর্বিত হই না। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা ওদের নষ্ট হতে দিইনি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
এর আগেও নানা সময় নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন জয়া বচ্চন। সম্প্রতি বরখা দত্তের সঙ্গে এক কথোপকথনে পাপারাজ্জিদের ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে জয়া বলেন, ‘আমি মিডিয়ার একজন পণ্য হতে পারি, কিন্তু পাপারাজ্জিদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এরা কারা? এরা কি এই দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রশিক্ষিত?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা একজন সাংবাদিক ছিলেন। প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু যারা নোংরা পোশাক পরে হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারা মনে করে মোবাইল থাকলেই যে কাউকে ছবি তোলা আর যা খুশি বলা যায়—এটা আমি মানি না।’
বয়সের ভারে নয়, অভিজ্ঞতার দৃঢ়তায় কথা বলেন জয়া বচ্চন। রুপালি পর্দা হোক কিংবা জনজীবন—নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার সাহসই তাঁকে আলাদা করে তোলে। সময় বদলালেও তাই জয়া বচ্চনের স্পষ্টতা আজও সমানভাবে আলোচিত।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে