বলিউডে হরর ছবির ইতিহাসে এক আলাদা অধ্যায় তৈরি করেছিলেন রামসে ব্রাদার্স। সত্তর ও আশির দশকে যখন মূলধারার সিনেমায় রোমান্স ও অ্যাকশন দাপট দেখাচ্ছে, তখন ভয়কে পুঁজি করে প্রায় দুই দশক ধরে হরর ঘরানায় একচ্ছত্র আধিপত্য গড়েছিলেন তাঁরা।
তাঁদের বহু ছবির মধ্যে ‘পুরানা মন্দির’ (১৯৮৪) ও ‘বিরানা’ (১৯৮৮) বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। তবে যে ছবিটি প্রথম ব্যাপক আলোড়ন তোলে, সেটি হলো ১৯৭৮ সালের ‘দরওয়াজা’।
ভয়কে ঘিরে কিংবদন্তি
‘দরওয়াজা’ মুক্তির পর এমনই সাড়া পড়ে যায় যে পরিবেশকেরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে কেউ একা হলে বসে পুরো ছবি দেখতে পারলে তাঁকে দেওয়া হবে ১০ হাজার রুপি পুরস্কার! সেই সময়ের হিসাবে যা ছিল বিরাট অঙ্ক।
শোনা যায়, ছবির ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে কিছু প্রেক্ষাগৃহের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত প্রস্তুত রাখা হতো। দর্শকের চিৎকার, আতঙ্ক আর গুঞ্জনে ছবিটি দ্রুত ‘কাল্ট’ মর্যাদা পায়।
এই ছবির জন্য রামসে ভ্রাতৃদ্বয় তুলসি রামসে ও শ্যাম রামসে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেকআপ শিল্পী ক্রিস্টোফার টাকারকে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর বিশেষ মেকআপ ও দানবীয় চরিত্র নির্মাণ ছবিটিকে অন্য মাত্রা দেয়। সেই সময়ের ভারতীয় সিনেমায় এমন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ছিল বিরল।
বলিউডে হররের বীজ অবশ্য আরও আগে বপন হয়েছিল ‘মহল’ (১৯৪৯), ‘বিশ সাল বাদ’ (১৯৬২), ‘গুমনাম’ ও ‘ভূত বাংলা’ (১৯৬৫)-এর মতো ছবিতে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে হরর ঘরানাকে জনপ্রিয় ও লাভজনক করে তোলার কৃতিত্ব যায় রামসে ব্রাদার্সের ঝুলিতেই।
স্বল্প বাজেট, সীমিত প্রযুক্তি—সব সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে তাঁরা এমন এক ভয়ের জগৎ নির্মাণ করেছিলেন, যা দর্শকের কল্পনাকে উসকে দিত। অন্ধকার প্রাসাদ, বজ্রপাতের শব্দ, রহস্যময় সুর আর ভয়ংকর দানব—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক স্বতন্ত্র ধারা।
‘দরওয়াজা’: এক কাল্টের জন্ম
আজকের দিনে ভিএফএক্স আর উচ্চপ্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে ‘দরওয়াজা’ হয়তো সরল মনে হতে পারে। কিন্তু মুক্তির সময় এটি ছিল দর্শকের জন্য এক শিহরণজাগানো অভিজ্ঞতা। হররপ্রেমীদের কাছে ছবিটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক সময়ের স্মৃতি—যখন সিনেমা হলে ঢুকতে সাহস লাগত আর একা বসে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
বলিউডের ইতিহাসে তাই ‘দরওয়াজা’ কেবল একটি হিট ছবি নয়, এটি এক ‘কাল্ট’ ঘটনা, যা প্রমাণ করে, ভয়ও হতে পারে সবচেয়ে বড় বিনোদন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে