জ্যাকুলিন ও সুকেশ
জ্যাকুলিন ও সুকেশ

২০০ কোটির অর্থ পাচার মামলায় নতুন মোড়, সুকেশের উপহারেই বিপাকে জ্যাকুলিন

২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার মামলায় নতুন করে চাপে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। বহুদিন ধরেই আলোচিত এই মামলায় এবার সরকারি সাক্ষী হওয়ার চেষ্টাও ভেস্তে গেছে তাঁর। উল্টো ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আদালতে দাবি করেছে, জ্যাকুলিন এই মামলার শুধু ভুক্তভোগী নন, বরং মূল অভিযুক্তের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ‘সমান অংশীদার’।

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে চলা এই অর্থ পাচার মামলায় সরকারি সাক্ষী হতে চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন জ্যাকুলিন। কিন্তু ১১ মে আদালতে সেই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে যে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে তাঁকে সাক্ষী নয়, বরং অভিযুক্ত হিসেবেই দেখা উচিত।

এরপর গতকাল মঙ্গলবার বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মার আদালতে নিজের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন জ্যাকুলিন। অভিনেত্রীর আইনজীবীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইডির দাবি, সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে জানার পরও তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন জ্যাকুলিন। তদন্তে উঠে এসেছে, সুকেশ অর্থ পাচারের টাকায় অভিনেত্রীকে বিপুল পরিমাণ দামি উপহার, গয়না, বিলাসবহুল ব্যাগ, দামি গাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী উপহার দিয়েছিলেন। শুধু তা–ই নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছেও আর্থিক সুবিধা পৌঁছেছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

ইডি আদালতে আরও জানিয়েছে, জ্যাকুলিন ও সুকেশের মধ্যে নিয়মিত ফোনালাপ ও বার্তা আদান–প্রদানের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। এসব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সংস্থাটির দাবি, অভিনেত্রী নিজেকে ‘অজ্ঞাতসারে প্রতারিত’ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করতে পারেন না; বরং তিনি জেনেশুনেই এসব সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন।

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ

তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য, অর্থের উৎস নিয়ে জ্যাকুলিন ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ রেখেছিলেন। এমনকি অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও পরিবারের জন্য সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি অর্থ পাচারপ্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠেন। ফলে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা মূলত আইনি সুবিধা পাওয়ার কৌশল বলেই মনে করছে ইডি।

এই মামলায় এর আগেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জ্যাকুলিনকে তলব করেছিল ইডি। পরে সংস্থার দাখিল করা সম্পূরক চার্জশিটে প্রথমবারের মতো তাঁর নাম অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, দিল্লির ব্যবসায়ী পরিচয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিক ও তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। পরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তে উঠে আসে, জেলবন্দী অবস্থাতেও তিনি বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন এবং নানা প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়ে যান। এই মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোর পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় বলিউডে।