বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দানা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন
বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দানা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন

‘অঙ্গারোঁ’ গানে রাশমিকার নাচ, কে-ড্রামা থিমে কেক, তেলেগু রীতিতে সম্পন্ন বিয়ে

দক্ষিণি তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দানা জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন। আজ সকালে উদয়পুরের পাহাড়ঘেরা বিলাসবহুল রিসোর্টে নিকটাত্মীয় পরিজন এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সকালে শুভ মুহূর্তে তেলেগু রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। সন্ধ্যায় কনে অর্থাৎ রাশমিকার পরিবার কোডাভা প্রথা অনুযায়ী বাকি রীতি পালন করবে। তবে বিয়ের আগের রাতে জমজমাট ছিল সংগীত অনুষ্ঠান। ‘পুষ্পা ২’ ছবির গানের সঙ্গে রাশমিকা নাচ করে রীতিমতো চমকে দিলেন হবু বরকে।

বিয়েটি ছিল একান্ত ‘ঘরোয়া’ আয়োজন। এই তারকা দম্পতির বিয়ের আসরে শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুরাই উপস্থিত ছিলেন। ভেন্যুতে মুঠোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল, যাতে কোনো ছবি ফাঁস না হয়। বিয়ের আগে পুল পার্টি, ওয়াটার ভলিবল ও ‘বিরোশ প্রিমিয়ার লিগ’ নামে একটি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল।

উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের পর আগামী ৪ মার্চ হায়দরাবাদে হবে রাজকীয় রিসেপশন, যেখানে ইন্ডাস্ট্রির নামী তারকারা উপস্থিত থাকবেন। কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে বিজয়-রাশমিকা জানান, শিগগিরই তাঁরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। এরপরই শুরু হয় ‘বিরোশ’ জুটির বিয়ের কাউন্টডাউন।

রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা

রাশমিকার চমক
গতকাল বুধবার গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত সংগীত আসরে বিশেষ চমক দেন রাশমিকা। প্যান ইন্ডিয়া এই নায়িকা নিজের সুপারহিট সিনেমা ‘পুষ্পা ২ : দ্য র‍্যুল’-এর গান ‘অঙ্গারোঁ’-তে নেচে বিজয়কে চমক দেন। হবু স্ত্রীর এই পরিবেশনায় বিজয় উচ্ছ্বাসে ভেসে যান। উপস্থিত অতিথিরা মুহূর্তটি উপভোগ করেছেন। খবর অনুযায়ী, সংগীত অনুষ্ঠানে রাশমিকাকে দেখে বিজয়ের মা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো অনুষ্ঠানই সম্পন্ন হয়েছে পারিবারিক, ঘনিষ্ঠ পরিবেশে।

কে ড্রামা থেকে প্রি-ওয়েডিং
‘বিরোশ’ অর্থাৎ বিজয়-রাশমিকার প্রি-ওয়েডিংয়ে আয়োজনে ছিল কে-ড্রামা থিম। কারণ, রাশমিকা কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির ভক্ত। অনুষ্ঠানে রাখা হয়েছিল কে-ড্রামা থিমের কেক। এদিকে বিজয় রাশমিকাকে চমক দিতে গানগনাম স্টাইলে নাচেন। পরে আয়োজন করা হয় অন্তরাক্ষরী খেলার, যেখানে শুধু তাঁদের অভিনীত ছবির গান গাওয়া হয়। অতিথিরা দুই দলে ভাগ হয়ে প্রতিযোগিতা করেন এবং বিজয়ী দল পায় বহুমূল্য উপহার।

রাশমিকা ও বিজয়

পাপারাজ্জিদের মধে৵ মিষ্টি বিতরণ
বিয়ের পর বিজয়-রাশমিকার পক্ষ থেকে ভেন্যুর বাইরে উপস্থিত পাপারাজ্জি ও শিশুদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। জানানো হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং দুই পরিবারই ভীষণ খুশি। মিষ্টির বাক্সের ওপর রাশমিকার ছবি দেখা গেছে।

রোমান্স থেকে ছাঁদনাতলা
রাশমিকা ও বিজয়ের প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয় ‘গীত গোবিন্দম’ এবং ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবির সময় থেকে। এই ছবিগুলোতে তাঁরা জুটি বেঁধে এসেছিলেন। শুটিং সেটে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে প্রেম। একসঙ্গে ছুটি কাটানো ও বিভিন্ন ছবি প্রকাশ্যে আসায় সম্পর্কের জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও তাঁরা প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি, তবু ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

হলুদের সমারোহ
গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি হলুদ অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবের আবহ। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, সবাই হলুদের রঙে মেতে উঠেছেন। প্রথা অনুযায়ী রাশমিকার পরিবার বিজয়ের পরিবারকে নারকেল, পানপাতা, ফল, মিষ্টি, হলুদ ও কুমকুম উপহার দেয়। অন্যদিকে বিজয়ের মা পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে রাশমিকাকে বংশগত চুড়ি উপহার দেন, যা তাঁকে পরিবারের বধূ হিসেবে গ্রহণের প্রতীক।

পাহাড়ঘেরা বিলাসবহুল ভেন্যু
উদয়পুরের আরাবল্লী পর্বতমালার মধে৵ অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট আইটিসি হোটেলসের দ্য মেমেন্টোসে বসেছে ‘ভিরোশ'-এর বিয়ের আসর। প্রকৃতি ও আভিজাত্যের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই বিয়েতে ব্যক্তিগত পরিসরই ছিল সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে বিয়ে—বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্কের এই পথচলা এখন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। ভিরোশ জুটির এই রাজকীয় আয়োজন ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো।