বলিউডের আলোচিত হরর ছবি ‘রাজ’–এর অভিনেত্রী মালিনী শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়জগতের বাইরে। একসময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই অভিনেত্রী হঠাৎই রুপালি পর্দা ছেড়ে চলে যান সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবনে। সম্প্রতি সেই নীরব জীবন নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর তার পর থেকেই যেন নতুন করে আলোচনায় ফিরে এসেছেন মালিনী।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মালিনী এখন ভারতের সাহ্যাদ্রি পাহাড়ে একটি ফার্মস্টে পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি ঘরে তৈরি খাবার, হাতে বানানো উপহারসামগ্রী, রুটি এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের প্রচারে কাজ করছেন। বলিউডের চাকচিক্য ছেড়ে প্রকৃতির কাছাকাছি এই জীবনযাপনই মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় মালিনীর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল মাত্র ৬৪৪ জন। অথচ প্রায় এক দশক ধরে তিনি নিয়মিত এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আসছিলেন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজারেরও বেশি হয়েছে। পুরোনো ভক্তরা যেমন ফিরে এসেছেন, তেমনি নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁর জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে অনুসরণ শুরু করেছেন।
ভিডিও বার্তায় কৃতজ্ঞতা
এই অপ্রত্যাশিত ভালোবাসার প্রতিক্রিয়ায় এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মালিনী। সেখানে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি কল্পনাও করেননি যে এত মানুষ তাঁর জীবনের গল্পে আগ্রহ দেখাবেন।
মালিনী জানান, অসংখ্য মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও উৎসাহের বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রত্যেকের বার্তার উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলেও তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, মানুষের এই ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। যাঁরা তাঁর নতুন জীবনকে সম্মান ও সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
বলিউড ছেড়ে নতুন পথ
২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাজ’ ছবির মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান মালিনী শর্মা। সেই সময় তাঁকে বলিউডের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ক্যারিয়ারের উত্থানের সময়ই তিনি অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
এরপর ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তিনি শহুরে জীবন ছেড়ে সাহ্যাদ্রি পাহাড়ে স্থায়ী হন। বর্তমানে তিনি একটি ছোট ফার্মস্টে পরিচালনা করেন। অতিথিদের জন্য ঘরোয়া খাবারের ব্যবস্থা করেন, স্থানীয় কৃষক ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের প্রচার করেন এবং প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপনকে উৎসাহিত করেন।
সরল জীবনই মানুষের আগ্রহের কারণ
মালিনীর গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, খ্যাতির পেছনে না ছুটে নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ার সাহসই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। কেউ কেউ লিখেছেন, দীর্ঘদিন পর তাঁকে আবার দেখে ভালো লাগছে। আবার অনেকে তাঁর নতুন জীবনধারাকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলেও উল্লেখ করেছেন।
বলিউডে ফেরার সম্ভাবনা?
ভক্তদের একজন মালিনীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বলিউড ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কোনো আফসোস আছে কি না? মালিনীর উত্তর ছিল, ‘কে বলেছে আমি ছেড়ে দিয়েছি? আমি শুধু দিক বদলেছি। চাইলে আবার ফিরতেও পারি, আবার চলে যেতেও পারি।’
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে