ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কেমন আছেন অভিনেত্রী মিলা

তাঁর মা-বাবা ধরেই নিয়েছিলেন ইউক্রেনে ভালো ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে গেলে কিছু একটা হবে—এই ভেবে মাত্র সাত বছর বয়সেই ইউক্রেন থেকে চলে যেতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে। শরণার্থী ভিসায় তাঁদের জায়গা হয় লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে। শৈশবেই মিলা কুনিস নাম লেখান অভিনয়ে। তাঁর জন্ম ১৯৮৩ সালের ১৪ আগস্ট । বিশেষ এই দিনে জেনে নিতে পারেন মিলার জানা অজানা কথাগুলো—
পরিবারের সঙ্গে মাত্র মাত্র ২৫০ ডলার নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় পা বাড়ান মার্কিন মুলুকে। তখনো জানতেন না ভাগ্যে কী লেখা আছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি স্কুলে কিছুদিনের মধ্যেই ভর্তি হয়ে যান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তখনো মিলা ইংরেজি শব্দগুলো ভালো করে চিনতেন না।
নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতিতে সাত বছরের মিলা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। কিছুই বুঝতেন না। এই নিয়ে শৈশবে অনেক কেঁদেছেন। অর্থনৈতিকভাবেও তাঁদের সংগ্রাম করতে হয়েছে।
মাত্র ৯ বছর বয়সেই তাঁর বাবা অভিনয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। যেখানে সেখান থেকে প্রথম বার্বির একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে সুযোগ পান। পরে টেলিভিশন ও ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে থাকেন। একসময় তাঁর কাছে মনে হয়, অভিনয়ে ভালো করবেন।
কিন্তু উচ্চতা নিয়ে তাঁর মধ্যে ভয় ছিল। তবে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা হলেও সেটা তাঁর কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়নি।
একবার একটি টিভি সিরিজে ১৮ বছরের কোনো মেয়েকে দরকার ছিল। তখন মিলার বয়স ১৪ বছর। তিনি অডিশনে যান। পরে জানাজানি হলে প্রযোজক নিজেই বলেছিলেন, মিলার মতো কাউকেই তাঁরা খুঁজছেন। সেই ‘দ্যাট সেভেনটিজ শো’ দিয়েই মিলা প্রথম সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পান।
পরে ‘এক্সট্র্যাক্ট’, ‘দ্য বুক অব এলি’, ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ দিয়ে তিনি সিনেমা ক্যারিয়ারে বেশি আলোচনায় আসেন।
নাটালি পোর্টম্যান, জোয়ি সালদানা, এমা স্টোন, জাস্টিন টিম্বারলেক তাঁর ভালো বন্ধু।
২০১৭ সালে অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাধিক পারিশ্রমিক নেওয়ার তালিকায় ৫ নম্বরে। তখন সিনেমাপ্রতি ১৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক নিতেন। টাইম ম্যাগাজিনের তালিকাতেও জায়গা পেয়েছিলেন।
২০০১ সাল থেকে তিনি নিয়মিত আবেদনময়ীর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। আইএমডিবি থেকে জানা যায়, মিলা ২২ বারের বেশি অভিনেত্রী হিসেবে আবেদনময়ী তারকার তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।