
‘অনেকেই হয়তো আমাকে ভুল বোঝেন, কিন্তু আমাকে নিয়ে মাতামাতিটা আমার আন-ইজি লাগে, বিব্রত হই।’ ২০১৯ সালে প্রথম আলোর সঙ্গে এক আলাপে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ নিজের নিভৃতে থাকার বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ বাংলাদেশের জন্য এনে দিয়েছে বিরল এক সম্মান। এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল বিভাগ আঁ সার্তে রিগায় স্থান করে নিয়েছে ছবিটি। খবরটা চাউর হওয়ার পর থেকেই আরও আড়ালে চলে গেছেন সাদ।
কোনো সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকার, টিভির টক শো—কোনো কিছুতেই তাঁর উপস্থিতি নেই। কয়েক দিন ধরেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিওর সাংবাদিকেরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন।
কোথাও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোনটা পর্যন্ত বন্ধ। অবশেষে চার দিন পর আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানালেন পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ।
প্রথম আলোকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাদ জানিয়েছেন, ‘কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে বাংলাদেশের প্রথম ছবি হিসেবে “রেহানা মরিয়ম নূর” আমন্ত্রিত হওয়ায় আমি আনন্দিত এবং সম্মানিত। এই অর্জন পুরোপুরি আমার টিমের। তাঁরা সবাই মিলে অমানুষিক কষ্ট করেছেন আর সর্বোচ্চ উদ্যমটা দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ এই মেধাবী টিম এবং আমার খুব সেনসিটিভ অভিনয়শিল্পীদের কাছে। তাঁরা ছাড়া আমি কখনোই এতটুকু আসতে পারতাম না।’
বিবৃতিতে নিজের সিনেমার গল্প প্রসঙ্গেও জানিয়েছেন সাদ। তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক ভাইবোনের মধ্যে আমি বেড়ে উঠেছি। আমার চিন্তাভাবনায় তাদের অনেক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে আমার বড় তিন বোনের। রেহানাকে নিয়ে লিখতে শুরু করি সম্ভবত সে রকম একটা জায়গা থেকেই। একটু একটু করে রেহানাকে নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করি। তার ভেতরের ক্ষোভ আর অবিশ্বাস নিয়ে ভাবি।
তার ভেতরের কমপ্লেক্সিটি এবং কনট্রাডিকটরি আচরণ বোঝার চেষ্টা করি। রেহানা কী চায় এবং কেন চায়, এটা নিয়ে লিখতে লিখতে ক্রমে আরও প্রশ্ন বের হয়ে আসতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ওই প্রশ্নগুলোই আমাকে ইন্সপায়ার করে ছবিটা করতে।’
আঁ সার্তে রিগা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ১৫ দেশের ১৮টি সিনেমা। প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ পরিচালকদের সঙ্গে বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিতে ১৯৭৮ সালে বিভাগটি চালু করেন জিল জ্যাকব। এই বিভাগে বিজয়ী সেরা ছবিকে দেওয়া হয় ৩০ হাজার ইউরো। ৬ জুলাই থেকে ফ্রান্সের কানে বসবে উৎসবের ৭৪তম আসর।
কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে হাত পাকিয়ে ২০১২ সালে দেশ টিভির জন্য ‘একটি অপ্রকাশিত কবিতা’ নামের ফিকশন নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। ওয়াহিদ তারেকের ছবি ‘আলগা নোঙ্গর’-এর চিত্রনাট্যও তাঁর লেখা। প্রথম চলচ্চিত্র ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’–এর জন্য ২৭তম সিঙ্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সেরা পরিচালক হন সাদ। এরপরই বাংলাদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমী, চলচ্চিত্রকর্মীদের মধ্যে অচেনা এই মেধাবী তরুণ পরিচালককে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি আজ পর্যন্ত কাউকে দেননি।