গতকাল ছিল দীঘির মা অভিনেত্রী দোয়েলে নবম মৃত্যুবার্ষিকী।
গতকাল ছিল দীঘির মা অভিনেত্রী দোয়েলে নবম মৃত্যুবার্ষিকী।

শুটিংয়ে গেলে মায়ের জন্য দীঘির মন কাঁদে

শুটিং সেট কিংবা বাসায় এখনো মাকে খোঁজেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। অভিনয়ের সময় এখনো তাঁর মনে হয়, ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে মা তাঁকে শিখিয়ে দিচ্ছেন, কীভাবে অভিনয় করতে হয়। গতকাল ছিল দীঘির মা অভিনেত্রী দোয়েলে নবম মৃত্যুবার্ষিকী। এখনো মায়ের দেখানো পথেই হাঁটছেন দীঘি।

মায়ের স্মৃতি এখনো স্পষ্ট তাঁর কাছে। মায়ের হাত ধরেই অভিনয় শুরু করেছিল ছোট দীঘি। কীভাবে অভিনয় করতে হবে, কীভাবে মুখে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে হবে, শুটিংয়ের সময় মুখে কীভাবে লাইট নিতে হয়, এগুলোসহ শুটিংয়ের যাবতীয় মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন তিনি। দীঘি মায়ের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, তিনি এখনো মায়ের দেখানো পথেই হাঁটছেন। ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবি থেকে শুরু করে ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’সহ প্রায় প্রতিটি ছবির শুটিংয়ের সময় মা তাঁকে ধরে ধরে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিখিয়ে দিতেন।

অভিনেত্রী দীঘি

তিনি বলেন, ‘ছবির গল্পে অন্যদের মা ডাকতে হতো। তখন মা বললেন, মনে করো তোমার সামনে আমি আছি। মা হলে যেভাবে কথা বলতে, সেভাবেই তুমি ডায়ালগ দেবে। আমার শুটিংয়ের প্রতিটা মুহূর্তে মা ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। শুটিংয়ে প্রতিটা মুহূর্তে এখনো মাকে মিস করি। শুটিংয়ে গেলে মায়ের জন্য মনটা খুব কাঁদে।’

তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি

‘বাবা জানো, আমাদের একটা ময়না পাখি আছে না, সে আজকে আমার নাম ধরে ডেকেছে, আর এ কথাটা না মা কিছুতেই বিশ্বাস করছে না, আমি কি তাহলে ভুল শুনেছি, কেমন লাগে বলো তো’—একটি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সংলাপের মাধ্যমেই সবার প্রিয়মুখ হয়ে ওঠেন শিশুশিল্পী দীঘি। এরপর নাম লেখান চলচ্চিত্রে। শৈশবে দীঘি শিশুশিল্পী হিসেবে ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘১ টাকার বউ’, ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিতে অভিনয় করে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

এখনো শুটিং গেলে মায়ের জন্য শূন্যতা অনুভব করেন এই অভিনেত্রী

২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ৩৬টি চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন। মাকে হারানোর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে তাঁর কষ্ট হতো। সে সময় পড়াশোনা নিয়েও ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ছোট দীঘি শিশু চরিত্র থেকে এ বছর নাম লিখিয়েছেন চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে। ছবিটির নাম ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’। ছবিটির শুটিং শেষ।

মায়ের হাত ধরেই অভিনয় শুরু করেছিল ছোট দীঘি

তাঁর হাতে রয়েছে ‘তুমি আছ তুমি নেই’ ছবির শুটিংয়ের কাজ। ছবিটির এখনো কিছু শুটিং ও দুটি গানের দৃশ্য ধারণ বাকি। এই ছবিতে একের পর এক নায়ক বদলে কিছুটা মন ভেঙে গিয়েছিল এই অভিনেত্রীর। তারপরও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন দীঘি। জানালেন, এখনো শুটিং গেলে মায়ের জন্য শূন্যতা অনুভব করেন তিনি। মা থাকলে হয়তো তিনি আরও বেশি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমার যে সাপোর্টটা দরকার, সেটা পাচ্ছি না। মা থাকলে অভিনয়টা আরও ভালো করতে পারতাম। মাঝেমধ্যে মাকে ছাড়া খুবই কষ্টে দিন কাটে।’

মাকে হারানোর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে তাঁর কষ্ট হতো