জন্মদিন

সবচেয়ে বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি

চিত্রনায়ক আলমগীর
ছবি: প্রথম আলো

২০০০ সালের আগে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় অভিনেতা খুঁজতে গেলে সবার আগে আসবে আলমগীরের নাম। তাঁর পুরো নাম মহিউদ্দিন আহমেদ আলমগীর। কেবল অভিনেতা হিসেবেই নয়, প্রযোজক, পরিচালক ও গায়ক হিসেবেও সুপরিচিত তিনি। শাবানা-আলমগীর জুটি দর্শকের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তবে তিনি কবরী, ববিতা, রোজিনা, সুচরিতা, অঞ্জু ঘোষসহ সমসাময়িক প্রায় সব নায়িকার সঙ্গেই কাজ করেছেন। অভিনয়ের ক্যারিয়ারে ২২৫টি সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণ করেছেন ৭টি সিনেমা।

কেক কাটা শেষে রুনা লায়লাকে কেক খাইয়ে দিচ্ছেন তাঁর জীবনসঙ্গী চিত্রনায়ক আলমগীর

ঢালিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর একজন অন্যতম প্রযোজক কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া। ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল দুদু মিয়ার ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন আলমগীর। আজ তাঁর ৭২তম জন্মদিন। আশি ও নব্বইর দশকের দাপুটে এই অভিনেতা সামাজিক, পারিবারিক, অ্যাকশন, রোমান্টিকসহ সব ধরনের সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আমার জন্মভূমি’র মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্রের অঙ্গনে পদচারণ শুরু হয় তাঁর। এরপর একে একে ‘দস্যুরাণী’, ‘মনের মানুষ’, ‘আগুনের আলো’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘বৌমা’, ‘ভাত দে’, ‘গরীবের বউ’, ‘পিতা-মাতা’, ‘স্ত্রীর মর্যাদা’সহ বহু আলোচিত ও সুপারহিট সিনেমায় দেখা গেছে তাঁকে।

তারকাদের মিলনামেলায় আলমগীর গান করছেন মেয়ে আঁখি আলমগীরের সঙ্গে

১৯৮৫ সালে ‘নিষ্পাপ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেন আলমগীর। ১৯৯৬ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘নির্মম’। প্রতিভাবান এই অভিনেতা গানও গাইতে পারেন। সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে গান শিখেছিলেন। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ‘আগুনের আলো’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম কণ্ঠ দেন। এরপর ‘কার পাপে’, ‘ঝুমকা’ ও ‘নির্দোষ’ চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন।

ভাত দে সিনেমার দৃশ্যে শাবানা ও আলমগীর

আলমগীর ঢালিউডের সবচেয়ে বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করা অভিনেতা। তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ‘মা ও ছেলে’ (১৯৮৫) ছবিতে অভিনয়ের জন্য। এরপর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে আরও ছয়টি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন ‘অপেক্ষা’ (১৯৮৭), ‘ক্ষতিপূরণ’ (১৯৮৯), ‘মরণের পরে’ (১৯৯০), ‘পিতা মাতা সন্তান’ (১৯৯১), ‘অন্ধ বিশ্বাস’ (১৯৯২), ‘দেশপ্রেমিক’ (১৯৯৪) ছবিগুলো জন্য। তিনি ‘জীবন মরণের সাথী’ (২০১০) ও ‘কে আপন কে পর’ (২০১১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরপর দুবার পার্শ্বচরিত্রের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া বর্ষীয়ান এই অভিনেতা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন।