‘রইদ’–এর শুটিংয়ে নাজিফা তুষি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
‘রইদ’–এর শুটিংয়ে নাজিফা তুষি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

তুষি কীভাবে ‘রইদ’–এর সাদুর বউ হয়ে উঠলেন? জানুন ১২ ছবিতে

পবিত্র ঈদুল আজহায় মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ সিনেমায় সাদুর বউ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন নাজিফা তুষি। অনেকে এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয়ও বলছেন। আজ সন্ধ্যায় সিনেমাটির শুটিংয়ের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন তুষি। সঙ্গে লেখা দীর্ঘ পোস্টে উঠে এসেছে সাদুর বউ হয়ে ওঠার গল্প। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত—

‘সাদুর বউ পর্ব ১’ শিরোনামের পোস্টে শেয়ার করা ছবিতে উঠে এসেছে সিনেমাটির শুটিংয়ের নানা মুহূর্ত। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সিনেমাটি নিয়ে তুষি লিখেছেন, ‘“রইদ” এমন একটা সিনেমা, যে সিনেমাটার এক্সপেরিয়েন্স কয়জন মানুষ এমন কাজের মধ্য দিয়ে জীবনে উপভোগ করতে পারে তা আমি জানি না। তবে আমি অনেক ভাগ্যবান যে আমি সেইটা করতে পেরেছি। সাদুর বউকে আপনারা যেভাবে দেখেছেন, যেভাবে ভালোবাসছেন, তার পেছনে যে গল্পগুলো আছে, তার কিছুটা হয়তো আমরা শেয়ার করেছি আপনাদের সঙ্গে। তবে, আমার স্মৃতিতে এইটা বেঁচে থাকবে আজীবন।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
নিজের চরিত্রটি নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সাদুর বউ হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার নির্মাতা, আমার টিম এবং ওই গ্রামবাসীর। সেই গ্রামবাসীরা এত সরল যে তাদের সঙ্গে চলতে চলতে তাদেরই গ্রামবাসীর পাগলি হয়ে উঠেছি। যখন কোনো একটা দৃশ্যে পাগলিকে মারতে হইত, তারা তখনই ডিরেক্টরের সাথে ঝগড়া করত কিন্তু পাগলিকে মারত না। সাদুকে মারত, কিন্তু পাগলিকে কখনোই মারত না। আজকে আমি অভিনেতা হয়ে কাজ করছি, আপনাদের ভালোবাসা অবশ্যই আমাকে শক্তি দেয়। তবে সাদুর বউকে আপনারা যেভাবে ভালোবেসেছেন, এইটা এখন পর্যন্ত আমার জীবনে পাওয়া সবচেয়ে সেরা উপহার।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি জানি না, অ্যাওয়ার্ড মানুষকে কতটা সমৃদ্ধ করে, আমি জীবনে খুব বেশি একটা অ্যাওয়ার্ড পাই নাই। তবে আমার কাছে মনে হয় যে আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাগুলো যেন অস্কার কিংবা কোনো অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতিকেও হার মানায়। যখন আমি বের হই, মানুষজন আগে আমাকে শুধু চিনত; তবে এখন মানুষজন আমার কাছে এসে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে, আমার হাতটা ধরতে চায়, আমাকে একটু ভালোবাসতে চায়—এই সবকিছু আমি বুঝতে পারি। এই অনুভূতিটা আসলে আমার কাছে যেকোনো অ্যাওয়ার্ডের থেকে অনেক বেশি কিছু।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরে তুষি আরও লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মানুষ বেঁচে থাকে, মানুষ শক্তিশালী হয় শুধু মানুষের ভালোবাসায় আর প্রকৃতির ভালোবাসায়। আমাকে যেভাবে রোদ, বৃষ্টি, আকাশ, বাতাস, গাছপালা ভালোবাসে, তেমনি আমাকে যখন কোনো অচেনা মানুষ এসে শুধুমাত্র তার অনুভূতির কথা বলে, তখন সেটা মনে হয় পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আসল সার্থকতা।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সাদুর বউ চরিত্রটি নিয়ে তুষির ভাষ্য, ‘সাদুর বউ এমন একটা চরিত্র, যে চরিত্রটাকে প্রথমে খুঁজতে গিয়ে আমি অনেক হাতড়িয়েছি, অনেকের মধ্যে অনেক কিছু খোঁজার চেষ্টা করেছি, অনেক ভয় পেয়েছি, অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছি। কিন্তু যখন কাজটা করা শুরু করলাম, একপর্যায়ে শেষও হলো, তখন আমার মনে হলো যে—আরে পাগলিটা তো আমার ভেতরেই ছিল, আমি কেন খুঁজে দেখলাম না? আর এই পাগলিটা তো আমার মায়ের মধ্যে আছে। পাগলিটা তো আরও অনেকের মধ্যেই আমার আশপাশেই আছে। এই পাগলিটাকে আমার খুঁজে পেতে এতগুলো সময় লেগেছে, তা শুটিং শেষ হওয়ার পর বুঝতে পারলাম যে আসল পাগলি কোথায়? অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
নিজের অনুভূতি তুলে ধরে তুষি লিখেছেন, ‘এ রকম নানা অনুভূতির মধ্য দিয়ে আসলে “রইদ”–এর পাগলি কিংবা সাদুর বউ হয়ে ওঠা। আপনাদের ভালোবাসার এই সাদুর বউয়ের কিছু মুহূর্ত আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।’ অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি আরও লিখেছেন, ‘অনেক কথা আমি বলতে চাই কিন্তু সুন্দর করে লিখতে বা বলতে পারি না বলে আমার অনুভূতিটাও ঠিকমতো শেয়ার করতে পারি না আপনাদের সঙ্গে। তবে এই অনুভূতি অনেক গভীর...আপনাদের ভালোবাসার মতো। এই ভালোবাসা জারি থাকুক।’ অভিনেত্রীর ফেসুবক থেকে
‘রইদ’ সিনেমায় সাদুর চরিত্রের অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সিনেমাটি ও নিজের চরিত্র হয়ে ওঠা নিয়ে তুষির লেখা পছন্দ করেছেন অনেক ভক্ত–অনুসারী। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
মন্তব্যের ঘরে তুষির অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন তাঁর অনেক সহকর্মীও। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সঙ্গে শুটিংয়ের নানা মুহূর্তের শেয়ার করা ছবিগুলোরও প্রশংসা করেছে অনেকে। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে