জহির রায়হানের প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন জহির রায়হানের স্ত্রী অভিনেত্রী সুচন্দা। গতকাল জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবসে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রজেকশন হলে তাঁকে নিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন পরিবারের সদস্যরা, সেখানে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইংরেজি ভাষায় ‘স্টপ জেনোসাইড’ নির্মাণ করেন জহির রায়হান। এতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, গণহত্যা, শরণার্থীদের দুরবস্থা তুলে ধরেন তিনি।
মঞ্চে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুচন্দা বললেন, একাত্তরে প্রামাণ্যচিত্রটি দেখে বিশ্ববাসী আঁতকে উঠেছিল। নতুন প্রজন্মের জহির রায়হানের চলচ্চিত্রকে ছড়িয়ে দিতেই প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান জহির রায়হানের ছেলে তপু রায়হান।
‘স্টপ জেনোসাইড’ নিয়ে তপু রায়হান বলেন, ‘এটি মুক্তিযুদ্ধের দলিল। ছবিটা আব্বা যুদ্ধের সময় ধারণ করেছেন। মানুষ কতটা সাহসী হলে কাজটা করতে পারে।’
সুচন্দা বলেন, জহির রায়হান খুব সাদামাটা মানুষ ছিলেন। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, তিনি মাটি ও মানুষদের ভীষণ ভালোবাসতেন। তাঁর লেখা ও চলচ্চিত্রে মানুষের কথা উঠে এসেছে।
জহির রায়হানকে নিয়ে তাঁর ছোট বোন শাহেনশাহ বেগম বলেন, ‘আমার চারপাশে আমার জহির রায়হানকে দেখছি না। এটাই আমার কষ্ট। উনি যে কী ছিলেন, এটা বলা মুশকিল। উনি বিশ্বপ্রেমিক ছিলেন। বিশ্বকে অন্যভাবে দেখেছেন। আমি প্রতিটি নিশ্বাসে–বিশ্বাসে জহির রায়হানকে স্মরণ করি।’
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ সহোদর শহীদুল্লা কায়সারের সন্ধানে বের হয়ে ঢাকার মিরপুরে হত্যার শিকার হন জহির রায়হান।
শাহেনশাহ বেগম বলেন, ‘এখন তো মানুষ ফিল করছে, এঁরা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। দেশের জন্য, প্রজন্মের জন্য। যে বা যারা তাদের যদি শেষ করে না দিত, তাহলে তো প্রতিভাগুলো আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করত। আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনেক কিছু শিখত।’
জহির রায়হানের অসমাপ্ত সিনেমা ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নিয়েও কথা বলেছেন শাহেনশাহ বেগম। তিনি বলেন, ‘“লেট দেয়ার বি লাইট”–এ উনি কী দেখাতে চেয়েছিলেন, সেটা কেউ জানেন না। বেশ। এফডিসিতে নিজের খরচে সিনেমাটা এডিট করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। মাঝখানে আমি খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। ছবিটা এডিট করতে পারিনি।’
আয়োজনে পরিবারের সদস্যদের বাইরে ‘স্টপ জেনোসাইড’ প্রামাণ্যচিত্রের সম্পাদক আবু মুসা দেবু, চলচ্চিত্র গবেষক মীর শামছুল আলম বাবুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন জহির রায়হানের নাতি আবরার রায়হান।