
আবারও তহবিল পেল বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড।’ ইতালির ফ্যাশন হাউস প্রাডার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে প্রাডা থেকে এই তহবিল পেল সিনেমাটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, এ বছর বাংলাদেশের সিনেমাটিসহ ১৪টি দেশের সিনেমার প্রকল্প এই অনুদান পাচ্ছে।
সব কটি সিনেমা ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তা পাবে। এই তালিকায় দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড পাবে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার তহবিল (৮০ হাজার ইউরো)। এর আগে একক ভাবে দেশের কোনো সিনেমা এত বড় অঙ্কের সহায়তা কোনো সিনেমা পায়নি।
ফন্ডাজিওনে প্রাডা সাইট থেকে জানা যায়, নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর নির্মাতাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। বাংলাদেশের দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। তিনি রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে জানান, বেশ কয়েক দিন আগেই শুনেছেন পোস্ট প্রোডাকশন প্রকল্প হিসেবে তাঁর সিনেমাটি তহবিল–সহায়তা পাচ্ছে।
সিনেমাটির সম্পাদনার কাজ শেষ করে ফ্রান্স থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন রুবাইয়াত। এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্তুগালের লিসবনে যাওয়ার সেখানে আবহসংগীতসহ (ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর) বেশ কিছু কাজ রয়েছে। তবে বড় চিন্তা ছিল সিনেমাটির ভিডিও ইফেক্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে। কারণ, এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দরকার ছিল। এমন সময়ে তিনি এই তহবিলের সুসংবাদ পান।
‘এটা আমার জন্য অনেক বড় খবর। আমার সিনেমাটি হরর ঘরানার। অনেক ভিডিও ইফেক্টের কাজ রয়েছে। সেগুলো এ সময়ে পেশাগতভাবে (প্রফেশনাল) করার জন্য অনেক অর্থ দরকার। সেখানে এই তহবিল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। এখন আমরা কাজটি আরও সুন্দরভাবে করতে পারব। আমরা হয়তো পোস্টের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেই জায়গাটি পার করতে পারব’, বলেন রুবাইয়াত।
নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চারটি চিত্রনাট্য উন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) পর্যায়ে রয়েছে, ৯টি নির্মাণাধীন (প্রোডাকশন) সিনেমা এই তহবিলের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পাশাপাশি পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে—এমন একটি সিনেমার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সিনেমাটি। এসব প্রকল্পে ৫ মহাদেশের ২৬টি দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
‘আমি দেশের প্রচলিত গল্প নিয়ে কাজ করতে চাই। যে গল্পে উঠে আসবে আমাদের নারীদের কথা। আমাদের নিজস্ব কথা, আমাদের সংস্কৃতির কথা। আমাদের নিজস্ব গল্পগুলোর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাহিদা রয়েছে বলেই কিন্তু আমাদের সিনেমাটি নানান জায়গা থেকে সহায়তা পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের প্রযোজক যুক্ত হচ্ছেন। ডিস্ট্রিবিউটর আসছে। হয়তো আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি সেই জায়গাটায় পৌঁছাতে পারব।’
বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। এর মধ্যে তুলে ধরেছেন সচেতনতার বার্তা। সিনেমার জনরা সামাজিক হলেও এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরর ঘরানা। এর আগে মেহেরজান, আন্ডার কনস্ট্রাকশন, মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমাগুলো বানালেও এবার প্রথম হরর বেছে নিয়েছেন তিনি। জানালেন এবারের গল্পটা তাঁর শৈশবে পারলারে চুল কাটাতে যাওয়ার দিনগুলোতে শোনা গল্প। যে গল্পের প্রধান উপাদান তাকে প্রতিবার পারলারে গিয়ে চুল কাটতে গিয়ে ভয়ের জগতে নিয়ে যেত। সেই শোনা গল্পটিই একটু একটু করে এক যুগের বেশি সময় ধরে ডানা মেলেছে। তবে সেই গল্প এখনই প্রকাশ করতে চান না।
রুবাইয়াতের এই সিনেমা এর আগে জার্মান ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড, পর্তুগালের ফিল্ম ইনস্টিটিউট, ইউইমেজেসসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে আর্থিক সহায়তা পায়। পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। কারণ, তিনি বিখ্যাত সব নির্মাতার সঙ্গে এই তহবিল পাচ্ছেন।
প্রশংসিত নির্মাতাদের মধ্যে রয়েছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণপাম জয়ী থাই নির্মাতা আপিচাতপং দারাসেথাকুল। তিনি এবার জেনজিরাস ম্যাগনিফিসেন্ট ড্রিম নিয়ে আসছেন। ম্যাক্সিকান পরিচালক তাতিয়ানা হুয়েজো, যিনি ২০২৩ সালে দ্য ইকো সিনেমার জন্য বার্লিনের এনকাউন্টারস বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান, তাঁর আগে কান উৎসব থেকে তাঁর প্রেয়ার্স ফর দ্য স্টোলেন আঁ সার্তে রিগা বিভাগে বিশেষ স্বীকৃতি পায়। এ ছাড়া আছেন জর্জিয়ান-সুইডিশ পরিচালক লেভান আকিন; বার্লিন থেকে জুরি পুরস্কার পেয়েছিল তাঁর ক্রসিং সিনেমাটি। ফন্ডাজিওনে প্রাডা ফিল্ম ফান্ড প্রথমবারের মতো বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থায়ন করছে।
সিনেমার প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে জাইনীন করিমকে। আগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করা জাইনীনের এবারই সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে। দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইডে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। সবশেষে পরিচালক জানান, সিনেমাটি নিয়ে শীর্ষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যেতে চান।