‘রইদ’ সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান
‘রইদ’ সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

নূরের সাদু হয়ে ওঠা

‘রইদ’ সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। চরিত্রটির সঙ্গে অভিনেতার যাত্রার গল্প শুনলেন মকফুল হোসেন

লোভ, কামনা, বাসনা আর নিষ্ঠুরতার মিশেলে নিজেকে পর্দায় মেলে ধরেছে সাদু। চরিত্রটি পুরোটা কল্পিত নয়। মায়ের কাছে শোনা সাদু ও সাদুর স্ত্রীর গল্পকে পর্দায় তুলে ধরেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। সুমনের কাছে সাদু চরিত্রের কাঠামোটা পেয়েছেন নূর, চরিত্রের বর্ণনা শুনেছেন।

নূর বলছেন, তিনি বাস্তবের সাদুর হাঁটাচলা বা কথা বলার ভঙ্গি অনুকরণের পথে হাঁটেননি। তিনি বলেন, ‘আমি ওই বর্ণনার সাইকোলজিক্যাল পার্টটা ধরার চেষ্টা করেছি। একটা বন্ধ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আমরা ভেতরটা শুধু অনুমান করতে পারি, আমি চেয়েছি সেই সত্যটাকে খুঁজতে।’

সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে নৌকা চালানো, গরু চরানো শিখেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিষয়টি সাদু চরিত্রকে আরও ঋদ্ধ করেছে।

নূর মনে করেন, এই চরিত্র তাঁর নসিবে ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এই ক্যারেক্টার আমি যতটা না হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি, প্রকৃতি আমাকে ততটাই সাদু হয়ে উঠিয়েছে। প্রকৃতি আমাকে আসলে সাদু করে তুলেছে। ওই প্রকৃতির সঙ্গে যতটা সময় থেকেছি, মনে হয় প্রকৃতি আমাকে ভেতরে একটা করে ভাবনা দিয়েছে।’

নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে শুটিং করেছেন নূর। জোঁকের কামড় সহ্য করে পানিতে নামা কিংবা রোদে পুড়ে গরু চরানো—সবই ছিল ক্লান্তিকর। তবে ইমরানের কাছে এসব শারীরিক কষ্টের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল চরিত্রটিকে মানসিকভাবে ফুটিয়ে তোলা। সেই চ্যালেঞ্জে উতরে গেছেন তিনি।

মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

বাবার ছায়া
সাদু চরিত্রের মধ্যে বাবার চরিত্রের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন নূর। ছোটবেলায় দেখা বাবার সততা, অভিমান আর একগুঁয়েমি তিনি এই চরিত্রে ধারণ করার চেষ্টা করেছেন। সিনেমাটি বাবাকে নিয়ে দেখেছেন তিনি। সিনেমাটি দেখে তাঁর বাবা ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। ইমরান লক্ষ করেন, পর্দার হাহাকার দেখে তাঁর বাবার শরীর কাঁপছিল।

সাধু চরিত্রে ইমরান। ভিডিও থেকে

নূর বলেন, ‘সাদু চরিত্রে আমি আব্বার চরিত্রের অনেক কিছু ব্লেন্ডিং করেছিলাম। ছোটবেলায় আব্বাকে যেমন দেখেছি, মাকে যেমন দেখেছি—সেগুলো আমার মধ্যে ছিল। আমাদের বাড়িতে কোনো কিছু অন্য কারও কাছে যেত না। সবকিছু আব্বা করতেন। টেলিভিশন নষ্ট হলে আব্বা ঠিক করতেন, ফ্যান নষ্ট হলে আব্বা ঠিক করতেন। শীতকালে ফ্যান খুলে মুছে, রং করে প্যাক করে রাখতেন। গরমকালে আবার সেটাকে সুন্দর করে লাগাতেন। ঘরটাও আব্বা-আম্মা একসঙ্গে গুছিয়ে রাখতেন। আমাদের বাসার সামনে ওরকম একটা লেকও ছিল। তো ওই জায়গায়, ওই জার্নিতে আমি অনেকখানি আমার দেখা আব্বা-আম্মার জীবনের জার্নির সঙ্গে রিলেট করেছি।’

সামনে কী
‘জ্বীনের বাচ্চা’ দিয়ে নির্মাতা হিসেবে নূরের অভিষেক ঘটেছে। সামনে আর কোনো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন? তিনি বলেন, ‘অলরেডি কাজ চলছে। খুব শিগগির আশা করি দর্শকের সামনে আনতে পারব।’

অভিনয়ে নতুন কী কাজ আসবে? জানতে চাইলে নূর বলেন, ‘এটা তো এখন বলতে পারব না। জানেনই তো, প্রোডাকশন কোম্পানি থেকে অ্যানাউন্সমেন্ট আসার পর এটা বলতে পারব।’